স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত নেতাদের উপস্থিতির কারণে রাজনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ইফতার পার্টিতে অংশ নেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার সংসদ ভবনের এলডি হলে বিরোধী দলীয় নেতার ইফতার অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে দলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের যোগ দেয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস শুক্রবার রাতে বিএনপির ইফতার মাহফিলে যোগ দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে বিরোধী দলীয় নেতার ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন। গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত এ প্রতিনিধি দল ইফতারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বেলা সাড়ে ৩টায় খালেদা জিয়ার দেয়া ইফতারে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম ইত্তেফাককে জানান, ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। তবে যেখানে জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি থাকবে সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেলিন বলেন, দলীয়ভাবেই বিএনপির ইফতার পার্টিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আবার দলীয়ভাবেই সে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ মনে করে, ইফতার মাহফিলকে ঘিরে বিরোধী দলের একটা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটা পরিণতির দিকে আসায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে তারা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চায় যে, আওয়ামী লীগ বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বললেও, ভিতরে ভিতরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। তাই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উপস্থিতির কারণে ইফতার মাহফিলে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির প্রেসিডিয়ামের সব সদস্য, এইচএম এরশাদসহ জাতীয় পার্টির (এ) শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ দুই প্রধান জোটের শরিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতাদের বিরোধী দলীয় নেতার ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের উপস্থিতির কারণে শুধু আওয়ামী লীগই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক রাজনৈতিক দল দাওয়াত পাওয়ার পরও বিএনপির ইফতার মাহফিলে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকে। আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জামায়াতের সঙ্গে একই স্থানে কোন অনুষ্ঠানে যোগদানের তীব্র বিরোধিতা করার যুক্তি হচ্ছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। গত সাড়ে চার বছরেই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় বা দলীয় কোন অনুষ্ঠানে জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধী কোন দলকে দাওয়াত দেয়নি, এদের সঙ্গে কোন অনুষ্ঠানেও যোগ দেয়নি। আর বিএনপির প্রধান শরিক হচ্ছে জামায়াত। খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূল মঞ্চে ওই দলটির নেতারা বসবেন এটাই স্বাভাবিক। ওই একই মঞ্চে আওয়ামী লীগের নেতারা বসলে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ বলে কিছু থাকবে না। আরও যুক্তি দেখিয়ে তারা বলেন, বিএনপির ইফতার মাহফিলে গেলে জনগণের কাছে ভুল ম্যাসেজ যাবে এই বলে যে, সরকার নির্বাচনের সময় বেকায়দায় পড়েছে বলেই ঘোর আদর্শিক শত্রু জামায়াতের সঙ্গে একই মঞ্চে বসেছে।
