গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার রক্ষায় আমেরিকান উদ্যোগ ইতিবাচক

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৮
বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অধিকার রক্ষায় ইউরোপের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৭টি বৃহত্ কোম্পানির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গার্মেন্টস উদ্যোক্তা ও সরকার। তারা মনে করছেন, এর ফলে দেশের গার্মেন্টস খাতের সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন তারা। তবে মালিকপক্ষ যে উদ্যোগটিকে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবছেন, সেটি হলো স্বল্প সুদে ঋণ। আমেরিকার ওই উদ্যোগে পরিকল্পিত গার্মেন্টস শিল্প পার্কে যেতে কারখানার মালিকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হবে। বর্তমানে দেশে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ উচ্চ সুদ হারের মধ্যে এটি তাদের জন্য সুখবর বলেই মনে করছেন তারা। আমেরিকান এ উদ্যোগ অনুযায়ী ১৭টি কোম্পানি মিলে বাংলাদেশের কারখানা শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি জোট গঠন করেছে। এই জোটের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন সাবেক মার্কিন সিনেটর জর্জ মিশেল ও অলিম্পিয়া স্নো। আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানা পরিদর্শন করা হবে ওই জোটের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে একটি সাধারণ মান নির্ধারণ করা হবে। এসব কারখানার উন্নয়নে আগামী ৫ বছরব্যাপী ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান দেয়া হবে। এছাড়া কারখানা নিরাপদ স্থানে সরানো ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য ১০ কোটি ডলার সহজশর্তে ঋণ দেয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ওয়াশিংটনে ১৭টি আমেরিকান কোম্পানির ওই উদ্যোগ সংক্রান্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, তাদের এ উদ্যোগ খুবই ভালো। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। কারণ তারা ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা নিরাপদ স্থানে সরাতে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। ব্যাংকের সুদের হার বর্তমানে অনেক বেশি। এটি কারখানা সরাতে মালিকদের উত্সাহিত করবে। এছাড়া শ্রমিকদের প্রশিক্ষণেও সহায়তা দেবে। তারা এ প্রক্রিয়ায় জড়িত হওয়ায় এখন কারখানা সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে কথায় কথায় আমাদের দায়ী করতে পারবে না। এছাড়া কারখানার কর্মপরিবেশ (কমপ্লায়েন্স) একই ধরনের মাপকাঠির (ইউনিফায়েড কোড অব কনডাক্ট) বিষয়েও তারা একমত পোষণ করেছেন বলে শহীদুল্লাহ আজিম জানান। এ বিষয়ে গতকাল বিবিসিতে বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, সরকার ৬শ একর জমিতে গার্মেন্টস শিল্পপল্লী গড়ে তুলছে। অর্থ সংকটের কথা বলে মালিকরা সেখানে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এখন স্বল্প সুদের ঋণ পাওয়া গেলে সেটি সহায়ক হবে। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় তারা ৫০০ কারখানা পরিদর্শন করবেন। আবার ইউরোপের ক্রেতাদের পরিদর্শনসহ অন্তত দেড় হাজার কারখানা পরিদর্শনের আওতায় আসবে বলে আশা করছি। তবে আমেরিকা ও কানাডার ১৭টি কোম্পানির আলাদা এই জোট গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এমনকি সেখানকার কোম্পানিগুলো। প্রায় এক ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপভিত্তিক ৭২টি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমেরিকার দুই একটি ব্রান্ড ছাড়া ওই উদ্যোগের সাথে বেশিরভাগ মার্কিন ও কানাডিয়ান ব্র্যান্ড যুক্ত হয়নি। দুই মহাদেশের উদ্যোগের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ইউরোপের উদ্যোগটি পালন করার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে আর আমেরিকার উদ্যোগ পালনে এই আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে। এজন্যই ইউরোপভিত্তিক ওই সব সংগঠন উত্তর আমেরিকার এই উদ্যোগকে ‘দন্তহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। এ প্রসঙ্গে গতকাল দ্য ইকোনমিস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ইউরোপভিত্তিক শ্রমিক অধিকার সংস্থা ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি স্কট নোভা বলেন, ‘অপ্রয়োগযোগ্য কোন অঙ্গীকার বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করি না’। প্রসঙ্গত তাজরীন ও রানা প্লাজায় দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিক হতাহতের পর বাংলাদেশে শ্রমিকের অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ে বিশ্বব্যাপী। এ অবস্থায় চাপের মুখে পড়েন ইউরোপ আমেরিকার বড় ক্রেতারাও। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও কারখানা শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের উদ্যোগ নেয়। ইউরোপভিত্তিক উদ্যোগে মার্কিন কোম্পানিগুলো এতদিন সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ গত বুধবার তারা এ বিষয়ে তাদের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে। বাংলাদেশের গার্মেন্টসের প্রায় ৬০ শতাংশ রপ্তানি হয় ইউরোপের বাজারে আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি হয় ১২ শতাংশের মত।