পদপ্রাপ্তির গুঞ্জনে নড়েচড়ে বসেছে বরিশাল বিএনপি!

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৯
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত শুক্রবার রাতে বরিশাল মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদারের নাম ছড়িয়ে পড়ে। টানা আড়াই বছর ঐ পদ পেতে লবিং করেছেন আলতাফ মাহমুদসহ একাধিক নেতা। প্রত্যাশিত পদ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে আলতাফ মাহমুদ ইত্তেফাককে জানান, খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় গেছেন। তার হয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ কেন্দ্রের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে এনেছেন। আলতাফ মাহমুদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ প্রাপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন ও বিবৃতি দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল শনিবার আলতাফের সাথে আরো ৩ জন কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন বলে গুজব রটে নগরীতে। এদের মধ্যে সহ-সভাপতি পদে এ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক পদে কাউন্সিলর জিয়াউদ্দিন সিকদার ও আবুল কালাম শাহীনের নাম প্রকাশ হয়। এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো কাদের দেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে সরোয়ার বলেন খুব শিঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। আগে ভাগে নাম প্রকাশ হলে লবিং তদ্বিরের সাথে পদ বঞ্চিতরা ক্ষুদ্ধ হয়। তাই সকল নাম এক সাথেই ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটির সহ-সভাপতি পদ পাওয়ার ব্যাপারে এডভোকেট আলী হায়দার বাবুল ইত্তেফাককে জানান- পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এখন নতুন কমিটি চাই। আর আগে পরে সব সময়ই সাধারণ সম্পাদক পদ চেয়েছি। যে কমিটির মেয়াদ শেষ সে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে পদ পেয়ে খুশী নন বাবুলসহ অনেকেই। তাদের বক্তব্য সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর মজিবর রহমান সরোয়ারকে সভাপতি ও এ্যাডঃ কামরুল আহসান শাহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। দলের তত্কালীন মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন কমিটি অনুমোদন দিয়ে সভাপতি- সম্পাদককে ৩ মাসের মধ্যে বাকি পদগুলো আলোচনার মাধ্যমে মনোনীত করার নির্দেশ দেন। এরপর মহাসচিব মারা যান। দু’ বছরের জন্য সভাপতি- সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া নেতাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তাই পদ বঞ্চিতদের দাবী নতুন করে সম্মেলন করা। পদ বঞ্চিতদের এ দাবীকে ভিত্তিহীন বলে আলতাফ ইত্তেফাককে বলেন- যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো অনুমোদন হয়নি তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার প্রশ্ন আসে না। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দলীয় ফোরামে বসেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে তেমন কোন রাগ ক্ষোভ থাকবে না দাবী করে তিনি বলেন- খুব শিঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।