জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা নানা কারণে তাদের স্বকীয়তা হারাচ্ছে। তারা নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার থেকেও দূরে সরে যাচ্ছে।এ জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে সাঁওতাল, মুণ্ডারী, উরাও, মাহলে ও কোহলে সম্প্রদায় অন্যতম। এর মধ্যে সাঁওতালদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। জেলার আদিবাসীরা অভাব-অনটনে পড়ে দিন দিন ধর্মান্তরিত হচ্ছেন। তারা গ্রামের প্রভাবশালী কুচক্রী মহলের পাল¬ায় পড়ে জমি হারাচ্ছেন। অত্যাচারিত হয়ে অনেক সময় তারা দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলায় আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ হাজার সাঁওতাল গত কয়েক বছরে ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন। জেলার সাঁওতাল সম্প্রদায় যুগে যুগে অনেক সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন। ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল যুদ্ধ, ১৯৪৪ সালে ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে তারা অংশ নেয়। ঠাকুরগাঁওয়ের রানিশংকৈলে তেভাগা আন্দোলনের সময় সাঁওতালদের তীর-ধনুক বৃটিশ শাসকদের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও তাদের সমাজের বাইরে রাখা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সংগঠনের নেতারা জানান, তাদের অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে। শিক্ষা না থাকায় ও সংগঠিত না হওয়ায় তারা সুবিধা করতে পারছেন না। তারা আইনি সহায়তাও পান না। সাঁওতালদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনের কোনো জমি নেই। অনেকের কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে জমি নেই। ১৯৪৭ সালের পর অনেকের জমি পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।
সাঁওতাল সম্প্রদায় খুব কর্মঠ। মহিলারা পরিশ্রম করে বেশি। ক্ষেতে-খামারে সাঁওতাল রমণীরা পুরুষের সঙ্গে পাল¬া দিয়ে কাজ করে। তারা ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণা করে। শিকার করা সাঁওতাল পুরুষদের জন্য বীরত্বের কাজ। শিকারে না গেলে কাপুরুষ মনে করা হয়।
