গোরক্ষনাথ মন্দিরের বিচিত্রি কূপ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৭
ঠাকুরগাঁও জেলার রানিশংকৈল উপজেলার দেড়’শ বছরের পুরাতন গোরক্ষনাথ মন্দিরটি অযত্নে অবহেলায় থাকলেও জেলার হিন্দু সমপ্রদায়ের কাছে এখনও আকর্ষণীয়। মন্দির এলাকায় অবস্থিত বৈচিত্র্যময় প্রস্তর নির্মিত আশ্চর্য কূপ ও তার পানি মহা পবিত্র বলে তাদের কাছে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর এ পবিত্র কূপের পানিতে স্নান করে পাপ মুক্ত হয়ে পূত পবিত্র হওয়ার জন্য হাজার হাজার নরনারী আসে এখানে। জেলার রানিশংকৈল উপজেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান নেকমরদ থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ‘গোরকই’ নামক স্থানে গোরক্ষনাথ মন্দির । এখানে গোরক্ষনাথ মন্দির ছাড়াও আছে নাথ আশ্রম। গোরক্ষনাথ মন্দির স্থানীয়ভাবে গোরকই মন্দির নামেও পরিচিত। এই আশ্রম ও মন্দির রানিশংকৈল উপজেলার গোরকই নামক স্থানে একটি মৃত নদীর তীরে অবস্থিত । এর চত্বরে ৫টি মন্দির রয়েছে। এ ছাড়াও আছে ৩টি শিবমন্দির ও ১টি কালিমন্দির। নাথ মন্দিরটি চত্বরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। মন্দিরের পিছনে একটি বৈচিত্র্যময় কূপ রয়েছে। পাথর দিয়ে তৈরি একটি ছোট চৌবাচ্চার মাঝে নিচু স্থানে ঐ কূপটি অবস্থিত। কূপটি বড় বড় কালো পাথরের খন্ড দ্বারা নির্মিত। এ কূপের একেবারে নিচু অংশটুকু পর্যন্ত পাথর দিয়ে বাঁধানো । এই কূপের মাঝখানে আছে একটি ছিদ্র। প্রতি বছরের ১৮ ফাল্গুন এ কূপের পানিতে স্নান উপলক্ষে শিবযাত্রী মেলা বসে। কূপের পূর্ব দিকে একটি দরজা ও পশ্চিম দিকে অপর একটি দরজা রয়েছে। এই দরজা দিয়ে নরনারী প্রবেশ করে ও কূপের পানি নিয়ে স্নান করে থাকে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও শাপ-মোচনের জন্য এ কূপের পানিতে স্নান করে থাকে। হাজার নরনারী স্নানের পরও এ কূপের পানি এক ইঞ্চিও না কমাটাই কূপের বৈশিষ্ট্য । মন্দিরের উত্তরে আছে একটি পান্থশালা। পান্থশালার দরজায় একটি ফলক বা শিলালিপি ছিল। এছাড়াও এ মন্দিরে গ্রানাইট পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। এই ফলকটি বর্তমানে দিনাজপুর যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। কথিত আছে, গোরক্ষনাথ ছিলেন নাথপন্থিদের ধর্মীয় নেতা খীননাথের শিষ্য। নবম-দশম শতাব্দীর মধ্যে ভাগে গোরক্ষনাথের আভির্ভাব ঘটে। তিনি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে মন্দির স্থাপন করেন। অলৌকিক ওই কূপটি সেই সময়ে নির্মিত। অনেকের মতে, গোরক্ষনাথ কোন ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি উপাধি মাত্র। গোরক্ষনাথ অথবা উপাধি চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এই মন্দির ও আশ্রম নির্মাণ করা হয়।