অরবিন্দুর পাঠশালা

প্রান্তিক শিশুদের আশার আলো

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৭
‘জন্মদিন’ শব্দটি শুনলেই মনের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ জাগে। চোখের পাতায় ভেসে ওঠে বর্ণিল আয়োজনের চিত্র- রঙিন বেলুন, বিশালাকার উপাদেয় কেক, মোমবাতি আর শিশুদের কল-কাকলি। এতোসব আয়োজন থাকে ক্ষণিকের জন্য; বড়জোর এক-দু’দিন। কিন্তু অরবিন্দুর ‘জন্মদিন’ চলে হররোজ। শিশুদের নিত্য পদচারণায় মুখর থাকে তার ‘জন্মদিন’ নামের অবৈতনিক পাঠশালা। ঠাকুরগাঁওয়ের অজ পাড়াগাঁয়ে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত করতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন সরকারি কর্মচারী অরবিন্দু রায়। ভিন্নধর্মী এই পাঠশালাটি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার উজ্জ্বলকোঠা গ্রামে। সন্ধ্যা নামলেই শিশুরা দলবেঁধে ছুটে আসতে থাকে অবৈতনিক এই পাঠশালায়। মাত্র ১০জন শিশু নিয়ে পাঠশালার যাত্রা শুরু হলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩’শ জনে। গত বছরের ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে সেবা আর শিক্ষার আলো ছড়াতে স্থানীয় পরিবার কল্যাণ বিভাগের কর্মচারী অরবিন্দু রায় এলাকার কয়েকজন যুবককে নিয়ে এ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে অরবিন্দু ও ১৬ জন বেকার যুবক/যুবতী এ পাঠশালায় শিক্ষা দান করছেন। উজ্জ্বলকোঠা ছাড়াও পাঠশালায় পড়তে আসছে বাঙ্গালীপাড়া, রামদেবপুর, ডাবগ্রাম, রাঘবপুর, অতরগাঁওসহ ৮টি গ্রামের শিশুরা। পাঠশালা চালু হওয়ায় শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। অভিভাবক বাসন্তী রানি, হিমেল সরকার, ললিত রায়সহ অনেকেই বলেন, ‘কৃষিতে তেমন ভালো লাভ হচ্ছে না। সংসারে টানাটানি। তিন-চার জন ছেলেমেয়ের লোখাপড়ার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম আমরা।’ এই পাঠশালাটি যেন আমাদের জন্য আশীর্বাদ। পাঠশালাটি বন্ধ হলে অনেক আলো নিভে যাবে। তাই সবার সহযোগিতা চাই।’ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মশালায় এ পাঠশালা চালু হলেও এখানে নেই বসার ব্যবস্থা। নেই আলোর ব্যবস্থা। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিশুরা কনকনে শীত উপেক্ষা করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুলের পাশাপাশি বিনা খরচে বাড়তি পড়ার সুযোগে খুশি শিশু শিক্ষার্থীরা। উজ্জ্বল কোঠা উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী জয়ন্তী রানি রায় জানায়, এ পাঠশালায় এসে লেখাপড়ায় তার মনযোগ বেড়েছে। স্কুলের পড়াগুলো এখানে এগিয়ে নেওয়া যায়।