জেলার গৌরবময় লোকশিল্প

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৭
ঠাকুরগাঁও জেলায় রয়েছে কুম্ভকার, কর্মকার, স্বর্ণকার, জেলে, তাঁতী, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, বাঁশের কাজ করে হাঁড়ি বা ডোম। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে পাওয়া যায় হাঁড়ি, কলস, পাতিল, থালা, বাটি, ঢাকনা, তাওয়া, মাছ ধোয়ানী, টব, ফুলদানী, প্রদীপ, ধুপদান, ছিলিম, দেবদেবীর মূর্তিসহ শো-কেসে সাজিয়ে রাখার মত নানা প্রাণীর মূর্তি। কর্মকাররা তৈরি করে কাসেত্ম, দা, কাঠারী, বটি, সর্ত্তা বা জাতী, হামান দিস্তা, হালের ফাল, খুন্তি, ডোহকী, কুড়াল, বশিলা ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। অতীতে তারা গরু গাড়ির চাকা তৈরি করতো। এখন গরুর গাড়ির প্রচলন না থাকায়, থাকলেও লোহার চাকার ব্যবহার না থাকায় আর চাকা তৈরি করতে দেখা যায় না। বাঁশের তৈরি জিনিস পত্রের মধ্যে ঢাকী, চাঙ্গারী, বাহুংকা বা বইংঘা, কুলা, ডুলি, চাটাই, ফুলের ডালা, ধামা, খৈ চালনী, পাখা, মাছ ধরার ডিহিরী, জালাঙ্গা, পোলোই, ছোট খাট, খাটিয়া ইত্যাদি। কাঠমিস্ত্রি তৈরি করে চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট, ড্রেসিং টেবিল, শো-কেস, মিটসেফসহ নানা আসবাবপত্র। গ্রামে কোন কোন কাঠ মিস্ত্রি মানুষের বাড়িতে গিয়েও কাজ করে। এরা টিনের ঘরেরও কাজ করে। রাজমিস্ত্রিরা পাকা ঘরের কাজ করে। স্বর্ণকারেরা তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের সোনা ও রূপার গহনা। এক সময় তাঁতীদের অবস্থা ভালই ছিল। তাঁতের কাপড় গ্রাম অঞ্চলে বিক্রি হতো ভালই। এই পেশার মানুষেরা এখন কৃষি বা অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছে। তবুও এখনও গামছা, ডাং বা দৌর (এক ধরনের বিছানা) তৈরি হয়। তবে এরা এখন পুরাতন উল দিয়ে কম্বল ও গায়ের চাঁদর তৈরি করে বিক্রি করে এগুলোর চাহিদাও আছে দরিদ্র মানুষের কাছে। এছাড়াও অনেকে মোটা সুতা দিয়ে ফিকাজাল, লাফিজাল তৈরি করে বিক্রি করে। কেউ কেউ পাট দিয়ে রশি বানিয়ে বিক্রি করে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমানে নাইলনের রশি ও সুতলীর প্রচলন হওয়ায় হাতের তৈরি রশির চাহিদা আর নেই। ঝিনুক থেকে চুন তৈরি করতো একটা সমপ্রদায়। এই চুন পানের সাথে খাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। এই শিল্পও এখন প্রায় ধ্বংসের পথে। রাণীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী এলাকায় কিছু মানুষ ‘মথা’ দিয়ে সপ বা পাটি তৈরি করে বাজার জাত করে।