প্রত্যয় খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৭
দেশের ব্যাবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন ও সামগ্রিক বিষয়ের সাথে নারীর অবস্থান অনেক শক্তিশালী। এরই ধারাবাহিকতায় ‘গোল’ একটি সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে খেলাধুলা ও শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কিশোরীদের ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সহযোগিতা করা হয়। ফিনান্সিয়াল লিটারেসি এবং জীবিকা নির্বাহের উপায়ের উপর প্রাধান্য দিয়ে গোলের পাঠ্যসূচিকে চারটি ট্রেনিং মডিউলে বিভক্ত করা হয়। এগুলো হল, ‘বি মানি স্যাবি’ ‘কমিউনিকেশন্স স্কিলস’ ‘বি ইয়র সেলফ’ এবং ‘হেলথ এন্ড হাইজিন’। বাংলাদেশের তিনটি জেলার (সিলেট, বগুড়া ও নারায়ণগঞ্জ) আটটি উপজেলায় কিশোরীদেরকে কেন্দ্রে রেখে গোল প্রকল্প চালু হচ্ছে। দুই বছরব্যাপী এই প্রকল্পের আওতায় তাদের উদ্দেশ্য ৪১ জন গোল সনদপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক, ৫০০ জন গোল চ্যাম্পিয়ন ও ৫০০০ জন কিশোরী এবং তরুণী। এই প্রকল্পের আর্থিক সহযোগী ছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সমপ্রতি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। গোল হচ্ছে এমন একটি প্রকল্প যা এমডিজি লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে করা হয়েছে এবং যার মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য ও দারিদ্র্য দূর করা ও নারীর ক্ষমতায়নকে উত্সাহিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কিশোরী-তরুণীরাও জানায় তাদের চাওয়া পাওয়া ও অর্জনের কথা। গোল প্রকল্পের ক্রিকেট কোচ তাহমিনা আক্তার বলেন, ক্রিকেটের উপর ট্রেনিং নিয়েছি দুবার। সেখান থেকে শুধু ক্রিকেটের বিষয়েই দক্ষতা নয়, বরং নারী হিসেবে সমাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা, অধিকার, সচেতনতা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করি। ফুটবল কোচ মাহমুদা আক্তার বলেন, অন্য তরুণীদের চেয়ে আমার ভাগ্য ভাল। নারীরাও পুরুষদের পাশাপাশি সব করতে পারে। বর্তমানে তিনি যে সকল তরুণীর ট্রেনিং দিচ্ছেন তাদের মাঝে খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজ এবং স্বাস্থ্য সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। জুডো কোচ রহিমা আফরিন রিয়া বলেন, অন্যান্য ক্রীড়ার মতো জুডোতেও তরুণীদের উপস্থিতি নারীর এগিয়ে যাওয়ার নিদর্শন। রিয়া বলেন, আমাদের যে কোন আয়োজিত খেলাতেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আসে। জুডো উপভোগ করে। আগে কিছু অভিভাবক এ বিষয়ে আপত্তি করলেও এখন তারাই সন্তানদের উত্সাহিত করছে।