অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে নারীদের উপস্থিতি পুরুষের তুলনায় খুবই কম। অত্যন্ত সৃজনশীল এই কাজে নারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে বহুদূর। এই পেশায় আমাদের দেশের নারীরা এগিয়ে আসছে। আমাদের দেশের নারী নির্মাতাদের মাঝ থেকে তিনজন নির্মাতাকে নিয়ে এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন— মাসরেকা জাহান
নারীদের জন্য ব্যতিক্রমী কিছু কাজ করতে চান শম্পা
এটিএন বাংলায় নিয়মিতভাবে প্রচারিত হচ্ছে শম্পা মাহবুবের মতামত ও স্টুডেন্ট পার্লামেন্ট অনুষ্ঠান দুটি। শুরু থেকে এই দুটি অনুষ্ঠানের বিষয়ে দর্শকের সাড়া পাচ্ছেন তিনি। তাই এ বিষয়ে তার আগ্রহ অন্যরকম। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা শম্পা কখনোই ভাবেননি প্রোডিউসার হবেন। স্বামী এ পেশার সাথে জড়িত বলেই এ পেশায় আসা। এখন তিনি কাজটা উপভোগ করেন। শম্পা বলেন, কাজ করতে করতে শেখার একটা অন্যরকম জায়গা থাকলেও সাংবাদিকতায় পড়া কিংবা এ বিষয়ে ছোটখাট প্রশিক্ষণ থাকলে অনেক বিষয়ই সহজে অনুধাবন করা যায়। কাজটাও সহজে আয়ত্তে আসে। ২০০৪ সালে যখন তিনি এই পেশায় আসেন তখন খুব একটা সুযোগ না থাকলেও এখন টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শেখার সুযোগও কিছুটা তৈরি হয়েছে। তবে শম্পা মনে করেন এই সুযোগটা যথেষ্ট নয়। একজন ভালো প্রোডিউসারের পড়াশুনা যেমন করতে হবে তেমনি অনেক ভাল কাজ দেখতে হবে। ক্যামেরার কাজ, সেট ডিজাইন এবং স্ক্রিপ্ট লিখতে জানতে হবে। আমি মনে করি, নারীর আলাদা কোনো পেশা নেই। তবে সব পেশাতেই নারীর জন্য আলাদা কিছু চ্যালেঞ্জ থাকেই। পরিশ্রমী আর কাজের প্রতি সত্ থাকলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফলতা অর্জন করা যায়। মিডিয়াতে নারীর অবস্থান নিয়ে নানা রকমের কথা প্রচলিত আছে। আমি মনে করি এটা সকলের জন্য নয়। ভালো থেকেও মিডিয়াতে নিজের অবস্থান তৈরি করা যায়। যারা কাজ ছাড়া উপরে উঠতে চায় তাদের স্থায়িত্ব খুবই কম। আর তাদের নিয়েই নানারকম কথা হয়। একজন নারী হিসেবে নারীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে আমার।
--
একজন সফল নির্দেশক হওয়ার
স্বপ্ন দেখেন চৈতি
ছোটোবেলা থেকেই এই কাজে আসার প্রতি আগ্রহ ছিল কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া আফরোজা সুলতানা চৈতির। আগ্রহ দেখে তার বাবা তাকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। শৈশব কেটেছে সরকারি চাকরিজীবী বাবার কর্মসূত্রে জামালপুর, ঢাকা ও কুষ্টিয়ায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কুষ্টিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে স্নাতকোত্তর করে দীর্ঘ ১২ বছর থিয়েটারে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে আরটিভির মাধ্যমে এই পেশায় যাত্রা শুরু। বর্তমানে সময় টিভির অনুষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন। তার অনুষ্ঠানসমূহ (১) অনন্যা-নারী বিষয়ক (সাপ্তাহিক), (২) রেস্তোরাঁর রান্না (সাপ্তাহিক), (৩) আলাপন-সেলিব্রেটি শো (সাপ্তাহিক)। তিনি মনে করেন এই কাজে আসার জন্য অবশ্যই নেতৃত্ব দেবার মত গুণাবলী দরকার। চিত্রগ্রাহক, চিত্র সম্পাদনাকারী থেকে শুরু করে প্রোডাকশন বয় সবাই তার টিম মেম্বার এবং দলনেতা হিসেবে সবাইকে সুন্দরভাবে পরিচালনা একজন প্রযোজকের বড় দায়িত্ব। তিনি বলেন, মেয়েদের এই পেশায় অংশগ্রহণ কম। এই পেশায় কাজ করার জন্য যে পরিমাণ সময়, পরিশ্রম এবং ধৈর্য প্রয়োজন সেটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এখনো অনেক নারীর জন্য সহজ নয়। তারপরও অনেক মেয়েরা এখন আসছে। আমি ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখি আমার এই পেশায় আরো অনেক বেশি মেয়েরা আসুক। বর্তমানে কাজের পরিবেশ অনেক নারীবান্ধব। এই পেশায় আরো অনেক মেয়েরা এলে তাদের অংশগ্রহণ সমৃদ্ধ করবে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে। পাশাপাশি একজন সফল নির্দেশক হতে চাই আমি।
---
শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে
চান ফাতেমা শিলু
‘আমি আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম নির্বাচন কমিশনের চাকরির মাধ্যমে। কিন্তু ভালো লাগেনি। এরপর একুশে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখে উত্সাহী হয়ে আবেদন করি এবং সুযোগ পাই প্রযোজক হিসেবে কাজ করার। খুবই আগ্রহ নিয়ে শুরু করলাম আমার প্রথম লাইভ অনুষ্ঠান একুশের সন্ধ্যা দিয়ে। তখন খুব আনন্দ লাগতো, মনে হতো যে জিনিসটা চিন্তা করতে পারছি ইচ্ছা করলে সেটা সবাইকে দেখাতেও পারছি। এভাবেই নিজের প্রযোজক হওয়ার গল্প বলছিলেন ফাতেমা শিলু। তিনি বলেন, কোনো মেয়ের টেলিভিশনের প্রযোজক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারাটাই তো ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তা। এই পেশায় কাজ করতে হলে সব থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসটি হলো নিজের চিন্তাধারাকে চোখে দেখার ক্ষমতা। আর সাথে দরকার আত্মবিশ্বাস। নারীদের জন্য এই কাজের আরেকটি বড়ো সমস্যা হলো এখানে কাজ কখন শেষ হবে তার কোনো ঠিক নেই। অনেক সময় দেখা যায় কাজ শেষ করে ঘরে ফিরতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তিনি ফিল্ম বানানোর স্বপ্ন দেখেন। তার আগ্রহ মূলত শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণে। আর এখন সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে জানালেন তিনি। শিশুদের মনের জগত্, শিশুদের আনন্দ-বেদনা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান শিলু।
