আলোকিতার স্বপ্ন

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২০:০০
গত অক্টোবর মাসে বিশ্বমানের চলচ্চিত্রের সম্ভার নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র উত্সব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইরানের ইস্পাহানীতে। বাংলাদেশ, জার্মানী, ইটালি, স্পেন, ইউনেসিয়া, ভারতসহ অনেক দেশ থেকে ক্ষুদে বিচারকরা প্রতিনিধিত্ব করেছেন নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতিকে। এই উত্সবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন সান ইডেন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আলোকিতা তাহমিন মনসূন। আলোকিতা তার স্মৃতিচারণে বলেন, রেইনবো ফ্লিম সোসাইটি থেকে যখন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উত্সবে যাবার অফারটি আমাদের স্কুলে আসলো তখন কিছু না ভেবেই সাহস নিয়ে আমি অফারটি গ্রহণ করলাম। বাসায় আব্বু-আম্মুকে বলতেই তারা আমাকে উত্সাহ দিতে থাকলেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এ সুযোগটি কাজে লাগাতে চেষ্টা করলাম মনে-প্রাণে। সারাদেশ থেকে মাত্র দুজন নির্বাচিত হলো। আলোকিতার আর অরিত্র। তখন মনে হলো ভালো কাজে সাহসটা শক্তি হিসাবেই কাজ করে। তার জন্য কেবল এগিয়ে চলতে হয়। আলোকিতা বলতে থাকেন ‘প্রথমে ইরানে অবস্থানকালে আমি পরিচিত হই বিশ্বের নানান দেশের শিশুদের সাথে। তাদেরকে আমি বাংলাদেশ সর্ম্পকে বলি। তারা মুগ্ধ হয়ে শুনে। সেই মুহূর্তটা সত্যি চমত্কার। ইরানে আমাদেরকে বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্রগুলো দেখানো হয়। সেখানে মরুভূমির শিশুদের কষ্টের কথা ফুটে ওঠে নিখুঁতভাবে। ছবিগুলোতে আমি আরও লক্ষ্য করি মুসলিম বিশ্বের নারীদের সব ক্ষেত্রে প্রাধন্যতার বিষয়টি, যা বিশ্বের সব নারীর জন্য সত্যি আশা জাগানিয়া বিষয়। ইরানের তেহরানে বিচারক হিসাবে ১২টি দেশের ২৭ জন ছিলাম। সেখানে বিচারকদের ৯টি দীর্ঘ ও ২৪টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি দেখানো হয়। মূল আয়োজন ছিল ইরানের ইস্পাহানীতে। শহরটি দেখতে ভারি সুন্দর। আমরা জুরিবোর্ড এখানে বসে মূলত দুটি কাজ করলাম। প্রথমত যে ছবিগুলো দেখলাম তার মূল্যায়ন করা, আর এদের মধ্য থেকে একটি বড় ও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি নির্বাচিত করে শ্রেষ্ঠ হিসাবে ঘোষণা করা। আমরা সবাই মিলে এর মধ্য থেকে দ্যা ডে ক্রো’স এবং দ্যা রেড রিং নামের দৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য দুটি ছবি নির্বাচন করি। আমরা লক্ষ্য করি এই ছবি দুটিতে শিশুদের বাস্তবসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি মজার মজার ঘটনা রয়েছে, যা সহজে শিশুর মননে প্রবেশ করতে পারে। উত্সবের ঘোষণার পর্বটি অভূতপূর্ব। এক আনন্দঘন অধ্যায়। বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে এর সুযোগের বিষয়ে আলোকিতা মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন সব আয়োজনে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের অনেক বেশি অংশগ্রহণ দরকার। কারণ এখানে শেখার মতো অনেক বিষয় আছে। তবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের সুযোগটা আরও বাড়বে যদি দেশে ইংরেজি শিক্ষার চর্চা আরও বাড়ানো যায়। কষ্টের কথা হলো, বিশ্বমানের এমন আয়োজনের খবর যতটা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে আসে ততটা বাংলা মাধ্যমের ছেলেমেয়েদের কাছে আসে না। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বড় জায়গায় গেলে চোখের সীমানা বাড়ে। স্বপ্নঘুড়ি উড়াল দিতে চায় অসীমে। যেমন আমি আজ স্বপ্ন দেখি বড় হয়ে দেশের সবচেয়ে ভালো মুক্তিযুদ্ধের ছবিটা তৈরি হবে আমার পরিচালনায়।