আজকাল প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে জীবাণু নাশক বা এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছা প্রয়োগ, অপপ্রয়োগ, অপব্যবহার হচ্ছে। এমনকি এন্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহারও হচ্ছে না বেশীরভাগ ক্ষেত্রে। ফলে দিন দিন এন্টিবায়োটিক তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। অনেক এন্টিবায়োটিক এখন আর শরীরে আগের মত কাজ করছে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে এসব এন্টিবায়োটিক। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী এক সময় ধারণা করা হতো এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্রেশনের কারণে এমআরএসএ বা মেথিসিলিন রেজিস্ট্যান্ট স্টাফাইলো কক্কাস অরিয়াস শুধু হাসপাতালে বিস্তৃত হতো। এখন এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হওয়ায় এ ধরনের ইনফেকশন কমিউনিটিতে ছাড়িয়ে পড়ছে। ৫০ এর দশকের যুগান্তকারী পেনিসিলিনের কথাতো ভুলেই যেতে শুরু করেছে মানুষ। এদিকে বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার সবচেয়ে বেশী হচ্ছে। ডাক্তারদের কলমে এখন শোভা পায় দামী-নামী এন্টিবায়োটিক। এসবও যে কতদিন চলবে তা বলা যায় না। তাই এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও ক্ষতিকর দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। ওষুধের দোকানে মুড়ি মুড়কির মত এন্টিবায়োটিক বিক্রয় হয়। পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে মুদি দোকানের মত এন্টিবায়োটিক কখনও বিক্রয় হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হওয়ার কারণে রোগের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। নতুন ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। এখন আর উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক দিয়েও সহজে রোগ সারানো যায় না। তখন প্রয়োজন হয় অধিক ব্যয় বহুল টক্সিক মেডিকেশন।
বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন এন্টিবায়োটিক সন্ত্রাস থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে হলে এর পরিমিত ও বিজ্ঞান সম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেমন: এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারের প্রয়োজন পড়লে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন সেবন করতে হয়। কিন্তু যেহেতু এদেশে এন্টিবায়োটিকের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই তাই যথেচ্ছাভাবে ব্যক্তি পর্যায়ে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বেশী হয়। এছাড়া ব্রঙ্ককাইটিস, ঠাণ্ডা, ফ্লু, কাশি, কানের ইনফেকশন, গলার ইনফেকশনসহ কিছু কিছু ইনফেকশন ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। এখানে এন্টিবায়োটিকের কোন ভূমিকা নেই। তবুও বেশীরভাগ আক্রান্তের ক্ষেত্রে হয় নিজেরা এন্টিবায়োটিক সেবন করেন অথবা বুঝে হোক না বুঝে হোক অনেক ডাক্তারও এন্টিবায়োটিক দেন। এদিকে বিশ্বখ্যাত মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী ভাইরাসের চিকিত্সায় এন্টিবায়োটিক অকার্যকর। তাই এসব এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই কোন অবস্থাতেই অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়। পাশাপাশি ওষুধের দোকনসমূহ থেকেও প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রয় করা উচিত নয়। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগেরও দায়িত্ব যাতে ওষুধের দোকানে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রয় না হয়।
লেখক : চুলপড়া, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
