সিরাজগঞ্জে ফের সংগঠিত হচ্ছে চরমপন্থিরা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৩৫
দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার সুযোগে ও আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চরমপন্থীরা আবারও সংগঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। র্যাবের ক্রসফায়ারে একাধিক চরমপন্থী নেতা নিহত হওয়ায় এতদিন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে ১ এপ্রিল থেকে চলনবিল ও তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পোস্টারিংয়ের মাধ্যম তারা তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথাই জানান দিল। এদিকে কোন কোন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আগামী নির্বাচনে কাজে লাগাতে এদের এখন অনেকটাই কদর বেড়েছে। যদিও চরমপন্থী দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু জামায়াত-শিবির দমনকেই তারা বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জেলার বিভিন্ন জনপদ ছিল চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য। একপর্যায়ে শ্রেণী শত্রু খতমের পাশাপাশি এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরমপন্থীদের নিজেদের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে অদ্যাবধি এদের রাজনৈতিক জিঘাংসায় প্রায় ১ হাজারের মত মানুষ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। বিশেষ করে ’৭১-এর পরবর্তীকালে বিভিন্ন আন্ডার গ্রাউন্ড পার্টির শ্রেণী শত্রু খতম অভিযানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতা নিহত হন। সেইসাথে মুজিববাহিনীর হাতে নিহত হন পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির অন্যতম নেতা কমরেড মনিরুজ্জমান তারাসহ অনেকেই। তবে ’৮০-র দশকে জাসদের গণবাহিনী ও মুজিববাহিনীর জিঘাংসার কারণে উভয় দলেরই বহু লোক নিহত হয়। বিশেষ করে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুজিববাহিনী-জাসদ গণবাহিনী, সর্বহারা পার্টি, পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির সশস্ত্র ক্যাডারদের তাণ্ডবে সিরাজগঞ্জের মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে প্রবীর নিয়োগী নেতৃত্বাধীন পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি, মনিরুজ্জামান তারার নেতৃত্বাধীন পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি (এমএল) খুবই শক্তিশালী ছিল। তখন জাসদের গণবাহিনী, সিরাজ সিকদারের পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি এবং পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির (এমএল) তত্পরতা বেশি ছিল। ১৯৭৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাসদের বিপ্লবী গণবাহিনী বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে এদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তন্মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি থানায় পূর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির বেশি আধিপত্য এবং জেলা সদরের দক্ষিণাঞ্চলের যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল এবং বৃহত্তর চলনবিলে সর্বহারা পার্টির তত্পরতাই বেশি লক্ষ্য করা গেলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রচেষ্টায় কোনাবাড়ী কলেজ মাঠে চরমপন্থী অধ্যুষিত রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে খ্যাত কামারখন্দ-বেলকুচি-সয়দাবাদ এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক সশস্ত্র চরমপন্থী একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় এদের তত্পরতা কমে যায়। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ৩ যুগে সিরাজগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগ দলীয় জনপ্রতিনিধি চরমপন্থীদের হাতে খুন হয়। এছাড়াও ইতিপূর্বে থানা-পুলিশ ফাঁড়িসহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে। দেশের বহুলালোচিত রান্ধুনীবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে চরমপন্থীদের অতকির্ত হামলায় ৪ পুলিশকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। এই হামলায় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র লুণ্ঠিত হয়। দেশের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলাতেই চরমপন্থীদের হাতে কামারখন্দ থানার ওসি খুন হন। গত ২৪ বছরে জেলায় ১৬ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং প্রায় ২৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও ইউপি মেম্বার খুন হলেও এই সকল হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হয়নি।