সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্ত-রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক শাহ্ আলম মাল (৪০)-এর মৃত্যুর ঘটনায় ৫ লক্ষ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ভারত সরকার। স্বাধীনতার পর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘটনা এটাই প্রথম।
ভারত সরকারের পাঠানো ৫ লক্ষ রুপির চেকটি গতকাল রবিবার দুপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) রাজশাহীস্থ ৩৭ রাইফেল ব্যাটালিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহত শাহ আলম মাল’র স্ত্রী বিউটি খাতুনের হাতে হস্তান্তর করেন বিজিবি’র রাজশাহী সেক্টরের উপ-মহাপরিচালক ও কমান্ডার কর্নেল সরকার মুহম্মদ শামসুদ্দিন। এসময় শাহ্ আলমের তিন ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২২), ইরাক হোসেন (২০) ও লালন উদ্দিন (১০), ভগ্নিপতি হানিফ মাল, বিজিবি’র ৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাম্মি ফিরোজসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিহত শাহ্ আলম মালে’র বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আতারপাড়া গ্রামে। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর বাঘার আলাইপুর বিওপি এলাকার ৮১/৯-এস নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে শাহ্ আলম বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই সময় তিনি সেখানে ঘাস কাট ছিলেন। স্ত্রী বিউটি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর অর্থাভাবে তার সন্তানদের কেউ লেখাপড়া করতে পারেনি। পেটের দায়ে তিনি নিজেও অন্যের বাড়িতে খেটেছেন। এখন ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে তিনি ছোট ছেলেকে লেখাপড়া শেখাতে চান।
বিজিবি কর্মকর্তা কর্নেল সরকার মুহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের কারণেই এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে আমরা ক্ষতিপূরণ- প্রত্যাশী নই। আমরা চাই সীমান্তে হত্যা বন্ধ হোক। তবু ভারত সরকারের এ ক্ষতিপূরণ আমাদের জন্য একটা স্বস্তির ব্যাপার। কারণ, তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে।’ বিজিবি’র রাজশাহীস্থ ৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাম্মি ফিরোজ বলেন, গত ১২জুলাই ভারতের সিংপাড়া ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে চেকটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। এ ধরনের ঘটনায় ভারত সরকারের এটি প্রথম ক্ষতিপূরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
