ভারতে শেষ হলো ১৬৩ বছরের টেলিগ্রামের যুগ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৮
এক সময় ভারতবাসীর সুখ-দুঃখের বার্তা যে যন্ত্রটি দিতো এবং মানুষের দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাতো ১৬৩ বছর আগে চালু হওয়া সেই টেলিগ্রামের অবসান হলো গতকাল রবিবার। এখন সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণে সংবাদপত্র, ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম এবং অনলাইনের ওপর খবরদারি করে। আর ব্রিটিশ আমলে তথ্য আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম টেলিগ্রামের ওপর জারি করা হতো নানা নিষেধাজ্ঞা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। গতকাল শুক্রবার ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হয়ে রাত ৯টায় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ইতিহাসে ঠাঁই নিল টেলিগ্রাম। আজ থেকে আর টেলিগ্রাম পাওয়া যাবে না। তবে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সর্বশেষ টেলিগ্রামটি জাদুঘরে রাখা হবে। বর্তমানে মোবাইলে এসএমএস এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো ই-মেইল মুহূর্তের মধ্যেই চলে যাচ্ছে আপনজনের কাছে। অনেকের কাছে হয়তো বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তির কাছে টেলিগ্রামকে বেমানান মনে হবে। এখনকার প্রযুক্তির মতো ঝামেলাও কিন্তু আগে পোহাতে হতো না। ১৮৫০ সালে কলকাতা এবং ডায়মন্ড পোতাশ্রয়ে পরীক্ষামূলকভাবে টেলিগ্রাম চালু করা হয়েছিল। ওই বছর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি টেলিগ্রাম চালু করে। আর ১৮৫৪ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত হয় টেলিগ্রাম। তখন থেকে ভারতবর্ষে আপনজনের সুখ-দুঃখের খবর জানার দ্রুততম মাধ্যম ছিল টেলিগ্রাম। ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি বিএসএনএল লোকসানের কারণে টেলিগ্রাম বন্ধ করতে সরকারকে পরামর্শ দেয়। প্রতি বছর প্রায় ৭৫ লাখ রুপি লোকসান দিতে হতো সরকারকে। গত মাসেই তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী কপিল শিবাল জানিয়েছিলেন, আমরা টেলিগ্রামকে উষ্ণ বিদায় জানাবো। তবে শেষ টেলিগ্রামটি জাদুঘরে রাখা হবে। পুরো ভারতে ৭৫টি টেলিগ্রাম কেন্দ্র রয়েছে এবং এক হাজারের কম কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিফোন কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারত থেকে টেলিগ্রাম বিদায়ের মধ্য দিয়ে পৃথিবী থেকেই বিদায় নিল এক সময়ের অতি প্রয়োজনীয় এই সেবা।