হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রীর চাকরি না হওয়ায় দুই দফায় সাত শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায়ের স্ত্রীর কর্মকর্তা পদে নিয়োগ না হওয়ায় তিনি ১৫/২০ জন নেতাকর্মী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোফরেস্ট বিভাগের প্রভাষক আবু হানিফকে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় উপাচার্যের কক্ষের বাইরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ৭/৮ জন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিতে গেলে দ্বিতীয় দফায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে ফুড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিভাগের প্রভাষক রাসেল, রায়হানুল কবীর, সুমন্ত সরকার, ফজলে রাব্বিসহ সাতজন শিক্ষক আবারও লাঞ্ছিত হন।
রেজিস্ট্রার প্রফেসর বলরাম রায় জানান, অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে অধ্যাপক এটিএম শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক হারুন উর রশিদকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একদিনের মধ্যে কমিটি লিখিত প্রতিবেদন পেশ করবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী উপাচার্য দোষী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভায় শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী সাত ছাত্রকে তাত্ক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক সমিতির নেতাদের জানান, ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষী ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষক সমিতি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত নাকচ করে দোষী ছাত্রদের বহিষ্কার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে অটল রয়েছে।
ওই ছাত্রদের বহিষ্কার করা না হলে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল একাডেমিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন বলে জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর এটিএম সফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষক প্রহারে জড়িত ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। ইতিপূর্বে অরুণ কান্তিকে বিশ্ববিদ্যালয় হতে বহিষ্কার করা হলে পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান। কিন্তু আবারো সে আগের মতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
