রাজধানীতে ক্রমশ পানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। রমজান মাসেও পানির দাবিতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। গত শনিবার রাতে এবং রবিবার পানির দাবিতে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এছাড়াও পানি সংকট দেখা দিয়েছে বাড্ডা, জোয়ার সাহারা, অলিপাড়া, বাসাবো, মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার সোসাইটি, মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটি, আদাবর হাউজিং, শ্যামলী, গ্রীন রোড, আজিমপুর ও শ্যামপুরসহ রাজধানীর কয়েকটি স্থানে ।
গত সাত দিন ধরে এক ফোঁটা পানি নেই গেন্ডারিয়া এলাকায়। গত শনিবার রাতে পানি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারাবির নামাজের পর শত শত মানুষ পানির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পানির জন্য তারা দীর্ঘদিন যাবত্ ওয়াসার জোনাল অফিসগুলোতে গণ-ধর্ণা দিলেও পানি সংকট নিরসনের কোন পথ খুঁজে না পেয়ে গেন্ডারিয়ার কয়েক হাজার মানুষ গতকাল শনিবারও রাস্তায় নেমে আসে। ভুক্তভোগীরা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গেন্ডারিয়া সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বিপাকে পড়েন পথচারীরা। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও র্যাব রাস্তায় নামে। তারা পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দিলে বিক্ষোভকারীরা দুপুর ১২টায় অবরোধ তুলে নেয়। এসময় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ মিছিল করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, টাকা দিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি পানির গাড়ির গায়ে মূল্য ৫০০ টাকা লেখা থাকলেও গাড়ি প্রতি আদায় করা হচ্ছে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫শ টাকা । এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসায় অভিযোগ করেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পানি নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে জোয়ার সাহারা, অলিপাড়া, নর্দ্দা, শ্যামপুর ও বাসাবো এলাকার কয়েকটি স্থানে। পানির জন্য তারা দীর্ঘদিন যাবত্ ওয়াসার জোনাল অফিসগুলোতে ধর্ণা দিলেও পানি সংকট নিরসনের কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
এদিকে গতকাল রবিবার পুরান ঢাকার শ্যামপুরে পানির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সহস্রাধিক মানুষ। তারা নিরবচ্ছিন্ন পানির দাবিতে এই মানববন্ধন করে।
বাড্ডা, জোয়ার সাহারা, অলিপাড়া এলাকায় দীর্ঘ ৩ মাস ধরে পানি সমস্যা চলছে। গত সাত দিন ধরে মোটেও পানি মিলছে না।
এ ব্যাপারে অলিপাড়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিন মাসের পানি কষ্ট দূর করতে বহু দেন দরবার হয়েছে। তিনি অবিলম্বে গভীর নল কূপ বসিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের পানি কষ্ট দূর করতে ঢাকা ওয়াসার প্রতি আহবান জানান। পিসিকালচার সোসাইটির বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, গত শনিবার বিকাল ৫টা থেকে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর রাত ১২টায় মিলে এক গাড়ি পানি। তিনি আরো জানান, এলাকায় একটি পাম্প উদ্বোধন করা হলেও পানি পাচ্ছেন না তারা। ১০ ইঞ্চি পাইপে কিছু পানি আসলেও ৬ ইঞ্চি লাইনে মোটেও পানি আসছে না।
ওয়াসার জোন-৩ এ পানি ব্যবসা জমজমাট: ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৩ এ পানি বিক্রি ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। সেখানে প্রতিটি পানির গাড়ি ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই রমরমা পানি বাণিজ্যের সাথে খোদ ওয়াসা মডস জোন-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শ্যামলী পিসিকালচার হাউজিং, মোহাম্মদিয়া হাউজিং, শ্যামলী গেন্ডারিয়া, মুগদা, মান্ডা ও শ্যামপুরে অব্যাহত পানি সংকট চলছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকার অদূরে শ্যামপুর ইউনিয়নে পানির সংকট তীব্রতর হয়ে উঠেছে। এখানে কয়েক হাজার পরিবার পানি কষ্টে ভুগছেন। সেখানে ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ঠিকমত পানি পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের।
এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম-এ-খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মূলত রাজধানীতে পানি সংকট নেই। তবে কিছু কারিগরী ত্রুটির কারণে কোথাও কোথাও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
