গল্প নয় সত্যি

বিপদের উপর বিপদ!

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ১৯:৪৩
বিকেলের আলো তখন প্রায় পড়ে এসেছে। এরই মাঝে ব্যস্ত রাস্তা ধরে নিজের ঝাঁ চকচকে ভলভো গাড়ি নিয়ে ছুটে চলেছেন এক চীনা ভদ্রলোক। পাশে বসা সুন্দরী আর লাস্যময়ী এক তরুণী। সবমিলিয়ে রোমান্টিক একটা আবহই যেন উপস্থিত ঘটনা আর বর্ণনায়। কিন্তু এরই মাঝে যেন অনেকটা খলনায়কের মতো হাজির হলেন এক বেরসিক ট্রাফিক পুলিশ। গাড়ি থামিয়ে চালকের লাইসেন্স দেখতে চাইলেন তিনি। সেই সাথে জানতে চাইলেন পাশে বসা তরুণীর সিটবেল্ট না পড়ার কারণটিও। ঘটনার এই পর্যায়ে এসে যেন কিছুটা অস্বস্তিতেই পড়তে দেখা গেল ভদ্রলোককে। বিনীতভাবে তিনি ট্রাফিক পুলিশকে জানালেন যে গাড়ি চালানোর লাইসেন্সটি তিনি বাসায় রেখে এসেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার স্ত্রী’কে ফোন দিয়ে সেটি আনানোর ব্যবস্থা করবেন তিনি। এ সময় পাশের আসনে থাকা তরুণীকেও পরে ফোন দেবেন বলে তড়িঘড়ি করে বিদায় করে দিলেন নাম না জানা ওই ভদ্রলোক। এবার শুরু হলো নাটকের দ্বিতীয় অংক। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভদ্রলোকের স্ত্রী ট্রাফিক পুলিশের হাতে লাইসেন্সখানা পৌঁছে দিয়েই শুরু করলেন নতুন জেরা। জানতে চাইলেন, মিটিং এর কারণে দেরি হবে বলেও কেন আগে ভাগেই বেরিয়ে পড়েছিলেন স্বামী প্রবর? এমনকি পুলিশ যে বলছে পাশের আরোহী সিটবেল্ট না পড়ার কারণে তাকে জরিমানা দিতে হবে সেই আরোহী কি পুরুষ ছিল না মহিলা? স্ত্রী’র এই জেরার মুখে আমতা আমতা করে আরোহী পুরুষ ছিল বলে কোনোমতে বিষয়টি আপাতত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই ভদ্রলোক। সেই সাথে এটি নিয়ে পরে বাসায় গিয়ে কথা বলবেন বলেও স্ত্রীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ততোক্ষণে নিজের সম্মান খোয়ানো আর লোক হাসানোর সমস্ত আয়োজনই প্রায় চূড়ান্ত। কেননা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে রাস্তায় ঘটে যাওয়া এই সত্যিকার ঘটনার পুরোটাই ততোক্ষণে ধারণ করে নিয়েছিল চীনা একটি টেলিভিশনের ক্যামেরা। আর বিষয়টা সবমিলিয়ে এতই শিক্ষণীয় ও চমকপ্রদ ছিল যে ওই ভদ্রলোকের অনুরোধ স্বত্বেও সেটি প্রচার থেকে বিরত থাকার দাবি উড়িয়ে দেয় ট্রাফিক পুলিশ ও চীনের ওই টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।