জামায়াতের হরতালে গতকাল সোমবার রাজধানীতে বিক্ষিপ্ত ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, পুলিশের সাথে পিকেটারদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটের আঘাতে সাংবাদিক ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। তবে নগরীতে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হরতাল চলাকালে রাজধানীতে অধিকাংশ দোকানপাট খোলা ছিল। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতের হাজিরা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। ব্যাংকে লেনদেন হয়। মহানগরীতে যানবাহন চলাচল করেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। তবে প্রাইভেট কার চলাচল করেছে কম এবং দূরপাল্লার রুটে কোন বাস ছেড়ে যায়নি।
দলের সাবেক আমির গোলাম আযমের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার প্রতিবাদে গতকাল সারা দেশে জামায়াত এই হরতাল আহ্বান করে। আগের রায়গুলোর মতো এবার যাতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা ঘটাতে না পারে সেজন্য গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর প্রতিটি সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকাতে রবিবার থেকেই নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা।
ভোর সাড়ে ৪টায় শাহজাহানপুর আমতলা এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মিছিল বের করে। তারা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোর পৌনে ৫টায় আগুন নেভায়। সেহরির পর হরতাল সমর্থকরা কাওরান বাজারে সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম প্রান্তে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ব্যানার নিয়ে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। এ সময় তারা ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোঁড়ে। সংঘর্ষে গণমাধ্যম কর্মী ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ অন্ততপক্ষে ১৫ জন রাবার বুলেটের স্প্লিন্টারে আহত হন।
মিরপুর এক নম্বর সেকশনে মাজার রোডে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের সামনে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা দুটি লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা ঢিল ছুঁড়ে কয়েকটি যানবাহনের কাঁচ ভাংচুর এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সকালে জুরাইন রেল গেইটের ওপর বালিশের তুলা রেখে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। এরপর তারা ককটেল ফাটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টায় কে বা কারা শাহবাগস্থ জাদুঘরের সামনে ফোয়ারার কাছে দুটি ককটেল ছুঁড়ে মারে। এর একটি বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
এদিকে হরতাল শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনসাধারণের মাঝে ভীতি, আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে হরতাল সমর্থনকারী জামায়াত শিবির কর্মীরা গতকাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ও তাত্ক্ষণিক তত্পরতায় তাদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে নগরীতে ৬টি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সারাদেশে হরতাল চলাকালে কয়েকটি স্থানে জামায়াত ও শিবির কর্মীরা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ১৫টি গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং ১১টি ককটেল ফাটায়।
