রায়ে প্রতিক্রিয়া নেই বিএনপির

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৯
জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া রায় সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বিএনপি। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় পড়া চলাকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গোলাম আযম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি, এর বাইরে আমরা এখন অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলবো না।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণভবনের এক অনুষ্ঠানে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টির নেতা বলে আখ্যা দিয়েছেন, বলেছেন-ভোটাররা ‘দুর্নীতিবাজ’দের জিতিয়েছেন। তার এ বক্তব্য কার্যত জনগণের বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জনগণকেই সরাসরি প্রতিপক্ষ বানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শরীরের কাপড়ে একটু ময়লা থাকলে সেটি বোঝা যায়, কিন্তু পুরো কাপড় ময়লায় আচ্ছাদিত থাকলে ময়লা বোঝা যায় না। এ সরকার সম্পূর্ণ ময়লায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন জসিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যাখ্যান ওয়ার্কার্স পার্টির বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেয়া গোলাম আযমের মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, গোলাম আযম মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করার পরও তাকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়া কোনো যুক্তিতেই গ্রহণ করা যায় না। ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেন, গোলাম আযম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে প্রধান বিরোধিতাকারী এবং পাকিস্তানিদের প্রধান সহযোগী হিসেবে রাজাকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী গঠন করেছিলেন। তারই নির্দেশে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ চলেছিল। তারা আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘটিত নির্দিষ্ট গণহত্যার ক্ষেত্রেও তার অপরাধ প্রমাণিত। সুতরাং তাকে কোনো বিবেচনায়ই রেহাই দেয়া যায় না। নেতারা এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করতেও আহ্বান জানান।