এটি একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়, প্রত্যাশা করিনি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২৩:০১
জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের সাজা ঘোষণার পর তার ছেলে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত ব্রি. জেনারেল আবদুল্লাহহিল আমান আযমী বলেছেন, ‘এটি একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। এ রায় প্রত্যাশা করিনি। কারণ আমার পিতার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করতে হয়। আবেগ দিয়ে বিচার হয় না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সবই প্রপাগান্ডা। আমরা সুবিচার পাইনি। রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’ গতকাল সোমবার রায়ের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আবদুল্লাহহিল আমান আযমী বলেন, ‘রায় নিয়ে পিতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি এই রায় নিয়ে বিচলিত নন। কারণ উনি তো আগেই বলেছেন তার রায় নিয়ে নাটক হবে। আমান আযমী বলেন, আমার পিতা মৃত্যুকে ভয় পান না। কারণ আল্লাহ যেভাবে তার মৃত্যু রেখেছেন সেভাবেই মৃত্যু হবে। বিচারের নাটক দেখলাম ঃ আফিফা আযম জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দেয়া রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম। গতকাল সোমবার লিখিত এক প্রতিক্রিয়ায় আফিফা আযম বলেন, এই রায় সম্পূর্ণ ন্যায়ভ্রষ্ট। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, কিন্তু বিষ্মিত নই। কেননা সরকারের বেশ ক’জন মন্ত্রী ও সরকারি জোটের শীর্ষ নেতারা অনেক আগে থেকেই রায় ঘোষণা করে আসছিলেন। ট্রাইব্যুনালে তাদের ঘোষিত রায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলো মাত্র। অধ্যাপক আযম তো গ্রেফতারের পূর্বেই বলেছেন, ‘রায় তো হয়েই আছে, এখন বিচারের নাটক হবে।’ আমরা আজ সে নাটকটাই দেখলাম। গোলাম আযম পত্নী বলেন, সুবিচার হলে তিনি (গোলাম আযম) নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে সসম্মানে মুক্তি পেতেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই রায় দিয়েছে। তাই আমরা এই ট্রাইব্যুনালের সকল কার্যক্রম ও রায় প্রত্যাখ্যান করি। সৈয়দা আফিফা আরও বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে এই মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা গোলাম আযমকে আদর্শিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ তারাই স্বাধীনতার চার দশক পর কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই মামলা করেছে। তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ কল্পিত, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট এবং একটি অভিযোগও তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রসিকিউটরগণ প্রমাণ করতে পারেননি। বিচারকের রায়েও একথা প্রমাণিত যে, কোনো অপরাধের সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি সরকারের কোন মন্ত্রী বা আমলা ছিলেন না। শান্তি কমিটিতেও তার কোনো পদ ছিল না। সুতরাং ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেস্পনিসবিলিটি’ তার উপর বর্তানোর দাবি হাস্যকর।