বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থীর সবাই হলে থাকে। ১২টি হলের মধ্যে অনন্য একটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল। ১৯৯৮ সালে স্থাপিত জাতির জনকের নামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ও বাকৃবির তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম পথিকৃত্ হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের সিট সংখ্যা প্রায় ৬০০, যা বাকৃবি ক্যাম্পাসের সর্ববৃহত্ হল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য এ হলের অবকাঠামো বাকৃবির সৌন্দর্যে এনে দিয়েছে অন্য মাত্রা। মানসিক প্রশান্তির অনন্য এক নীড়। প্রথমেই বলতে হয় এর ভবনগুলোর চমত্কার অবস্থান কাঠামোর কথা। হল ভবনগুলোর সামনে রয়েছে আলিসান বাগান, যেখানে দেখা মেলে ডালিয়া, গোলাপ, বেলি, ম্যাগনেলিয়া, দোপাটি, জিনিয়াসহ সহস্র ফুল গাছ। পিছনে বিশাল আম বাগান ও বিশ্ব সমাদৃত জার্মপ্লাজম সেন্টার। ডানে ফল বাগান ও বামে কেন্দ্রীয় স্টেডিয়াম। বিকাল হলেই হলের ছোট-বড় সবাই আড্ডা, গল্পগুজব, কবিতা আবৃত্তি করার জন্য চলে আসে গার্ডেনে। আর রাহাতের কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা আড্ডাতে দেয় নতুন মাত্রা।
বাকৃবির প্রতিটি ছাত্রের মুখের একটা কমন কথা হলো বাকৃবি আর কির্ন্ডার গার্টেনের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। কারণ সেই সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ক্লাস আর ব্যবহারিক ক্লাস চলে বিরতিহীনভাবে। শত ক্লান্তির মাঝেও জীবনের অখণ্ডনীয় অভিজ্ঞতা আড্ডা, তাদের কোনভাবেই থেমে থাকে না। অন্য ভুবন, হ্যাভেন গেট, নক্ষত্রবীথি স্বর্ণ কমল, নিজুল দ্বীপ, মাড ইত্যাদি তলার পথের সন্ধানে, অপরাজিতা, বিগ ব্যাঙ, দিব্যলোক, শীতল পাটি, বাঁধনহারা, নিঝুম, জল জ্যোত্স্না, চিত্তপট নামক শত রুমে চলে জীবনের সবচেয়ে মজার এ আনন্দক্ষণ। আর বাকৃবির হলের আড্ডার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ফ্যাকাল্টি। যেখানে একে অপরকে মজা করে ডাকে রাখাল, গরুর ডাক্তার, জেলে, কৃষক, ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাম্য অর্থবিদ ইত্যাদি নামে, যা তাদের ভ্রাতৃত্বকে অটুট করে।
এছাড়াও শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সাংবাদিকতা, কর্মসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এ হলের রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। কমন রুমের ক্যারাম খেলে, টেবিল টেনিস খেলে, আর টিভির বিকট শব্দে মনে হবে এ যেন এক জমজমাট বাজার। তারপরও সবাই রয়েছে নিজ নিজ সক্রিয়তায়। প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের দুরন্তপনা সর্বদা থাকে চোখে পড়ার মতো। রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতেও সৌরভ, জাহিদ, মুরাদ, সুম্ময়, ফয়সাল, কামরুল, রাকিব, জামি, ওলি, আকাশ, আল-আমিন, পিয়াস, জিহাদ, অনিক, তুলেসদের খেলা দমিয়ে রাখতে পারে না। বঙ্গবন্ধু হলে ছোট-বড় সবাই সবার সাথে বেশ আন্তরিক। বড় ভাইয়েরা ছোটদের যেমন স্নেহ করে, তেমনি ছোটরাও বড়দের প্রতি ততটাই শ্রদ্ধাশীল। বিপদে- আপদে সকলে যেন একই সত্তায় পরিণত হয়। জাতির জনক যেমন মানুষকে ভালোবাসতেন, তেমনি তার মর্যাদাস্বরূপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলেও নাই কোন ভেদাভেদ, সবার মাঝে রয়েছে ভালোবাসার প্রবল টান। বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীরা তাই মনে করে পুরো হল একটি পরিবার এবং তারা এই পরিবারের সদস্য। আর এই হলের সুখ-দুঃখের নানা স্মৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত্ জীবনে স্মৃতির মণিকোঠায় স্থান করে নিবে এমনটিই প্রত্যাশা করে হলে বসবাসরত প্রতিটি শিক্ষার্থী।
