এক ছিল এক রাজ্য। রাজ্যের নাম ছিল ঋতু। সে অনেককাল আগের কথা। রাজ্যটা ছিল মহাকাশে। সেই রাজ্যের রাজার নাম পল্লব রায়। রাজার ছিল দুই ছেলে পাঁচ মেয়ে। বড় ছেলের নাম গ্রীষ্ম, তারপরের মেয়েগুলো হল যথাক্রমে বর্ষা, শরত্ এবং হেমন্ত। তারপর আরেকটা ছেলে। তার নাম শীত। শীতের পর দুটো বোন। বসন্ত আর পৃর্থী। তারা খুব মিলেমিশে থাকতো। একদিন সৃষ্টিকর্তা পল্লব রায়ের সব সন্তানদের ডাকলেন। সবাই এলো পৃর্থী ছাড়া। পৃর্থী বাগানে পুতুল খেলছিল। সে সবার ছোট বোন। তাই সে সবচেয়ে আদরের। পৃর্থীকে সব্বাই ভালোবাসতো। ওই দেশের সব লোকেদের পিঠে তিনটি করে পাখা আছে। পৃর্থী সেই পাখার ওপর ভর দিয়ে বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল আর পুতুল খেলছিল। সৃষ্টিকর্তা দেখলেন পৃর্থী আসেনি। তাই তিনি তার সৈন্যদের দিয়ে পৃর্থীকে ডাকালেন। পৃর্থী এলো। সৃষ্টিকর্তা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কোথায় ছিলে?’
- বাগানে।
আমি ডেকেছিলাম তবুও তুমি এলে না কেন?
আমার মনে ছিল না।
কি করছিলে বাগানে?
পুতুল খেলছিলাম।
কেন?
আমি পুতুল খেলতে ভালোবাসি।
সৃষ্টিকর্তা খুব রেগে গেলেন। তিনি পৃর্থীকে শাস্তি দিতে চাইলেন। অন্য ভাই-বোনেরা কান্নাকাটি শুরু করলে সৃষ্টিকর্তার মন নরম হলো, তিনি পৃর্থীকে পৃথিবীর উপর ছড়িয়ে দিলেন। অন্য ভাই-বোনেরা কান্না করতে লাগলো। তারা সৃষ্টিকর্তাকে বলল, ‘আপনি আমাদের ওপর দয়া করুন। আমরা আমাদের বোনকে না দেখে থাকতে পারবো না।’
তখন সৃষ্টিকর্তা বললেন, ‘ঠিক আছে। তোমরা ছয় জন পালা করে তোমাদের বোনকে দেখতে যাবে। একজনের পর একজন পৃথিবীতে যাবে। একেকজন একেক জায়গায়। পৃর্থীর কাছে দুই মাস থাকবে। তোমরা আর ফিরে আসতে পারবে না এ দেশে। পৃথিবীর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবে আর পৃর্থীর সাথে দেখা করবে। এক জায়গায় দুইজন এক সাথে থাকতে পারবে না। তোমরা যদি এ শর্ত মান, তাহলে বোনকে দেখতে পাবে।’
সবাই কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো, ‘ঠিক আছে, আমরা রাজি’।
সৃষ্টিকর্তা তাদের ঋতু করলেন এবং পৃথিবীতে পাঠালেন। ওরা একেক সময় একেক স্থানে থাকে আর পৃর্থীর সাথে দেখা করে। তাইতো দুই মাস অন্তর ঋতু বদলে যায়। এখন বর্ষা ঋতুর পালা পৃর্থীর সাথে দেখা করার। তোমরা দেখো, রাতে যখন বৃষ্টি পড়ে, তখন বর্ষা রিমঝিম আওয়াজে পৃর্থীর সাথে কথা বলে। শত হলেও বোন তো!
চতুর্থ শ্রেণি, আইডিয়াল স্কুল, ঢাকা
