নদীভাঙ্গনে বিলীন ফসলি জমি বসতভিটা ও ভবন

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২০:৫২
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনার ভাঙ্গনে থানা পুলিশের ২টি ভবন ও উপজেলা পরিষদের কয়েকটি স্থাপনা আংশিক বিলীন হয়েছে। মানিকগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা নদী ভাঙ্গনের শিকার। এছাড়া রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নদীভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর। চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) যমুনার পানি কমা অব্যাহত থাকলেও চৌহালীতে ভাঙ্গনের মাত্রা কমেনি, বরং তা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় পানি এ এলাকায় আরো ২ সেন্টিমিটার কমে তা বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চৌহালীতে ভাঙ্গন বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা পরিষদে অবস্থিত থানা অফিসের ২টি কোয়ার্টার নদীতে বিলীন হয়েছে। জানা যায়, নদীতে পানি কমতে শুরু করায় তীব্র স্রোতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে তীরবর্তী চৌহালীর বোয়ালকান্দি থেকে দক্ষিণে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে নদী ভাঙ্গনের তাণ্ডবলীলা। গত ২ সপ্তাহের ব্যবধানে এসব এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং ৮/১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে অবস্থিত থানা পুলিশের ২টি কোয়ার্টার বিলীন এবং ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন এবং থানা কোয়ার্টারের আরেকটি ভবনের আংশিক যমুনায় বিলীন হয়েছে। বাকি অংশ যেকোন সময় বিলীন হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। শিবালয় (মানিকগঞ্জ): পদ্মা-যমুনায় পানি বৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনার পানি আরিচা পয়েন্টে গতকাল মঙ্গলবার ৯ দশমিক ৪ মিটার প্রবাহিত হচ্ছিল। এর প্রভাবে মানিকগঞ্জের শাখানদী ইছামতি, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে প্রবল সে াত ও বাতাসে সৃষ্ট ঢেউয়ের কারণে ফেরি-লঞ্চ চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী, বাঁচামারা, জিয়নপুর, খলসী, শিবালয়ের তেওতা, আরুয়া, শিবালয়, ঘিওরের পয়লা, ঘিওর, বানিয়াজুরী প্রভৃতি ইউনিয়নের নদী সিকস্তি-পয়স্তি ও দুর্গম চরাঞ্চলে নতুন করে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন রোধ ও ত্রাণ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে জরুরি বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী) পদ্মা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী তীরবর্তী উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের আটটি গ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এসব গ্রামের প্রায় শত বিঘা ফসলি জমি ও অর্ধশত পরিবার ভাঙ্গন আতঙ্কে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র সরে গেছে। জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পদ্মা নদী তীরবর্তী দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর, দৌলতদিয়া, ছাত্তার মেম্বার পাড়া, কিয়ামদ্দিন মন্ডল ও ইসাইল শিবরামপুর এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে অন্তত ২০টি পরিবারের ভিটামাটি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে অন্যত্র চলে গেছে শতাধিক পরিবার। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের অন্তারমোড়, চর দেলন্দি, বাঘাবাড়ি ও বেথুরি এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এলাকার পাকা সড়ক ও প্রায় অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল গনি মন্ডল বলেন, গত এক সপ্তাহে ইসাইল শিবরামপুর এলাকার ১২টি, কিয়ামদ্দিন মন্ডলপাড়ার ৬০টি, ছাত্তার মেম্বারপাড়ার ২০টি পরিবার ভাঙ্গন আতঙ্কে অন্যত্র সরে গেছে। এছাড়া বাহির চর দৌলতদিয়া এলাকায়ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি পরিবার সরে গেছে এবং ফসলি জমিও ভেঙ্গে গেছে। দেবগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙ্গন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাটাখালি-অন্তারমোড় পাকা সড়কের প্রায় দুই’শ ফুটের অধিক সড়ক নদীতে চলে গেছে। চর দেলন্দি গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার অন্যত্র সরে গেছে। বাঘাবাড়ি ও বেথুরি গ্রামের অনেক ফসলি জমি নদীতে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দেতবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার বলেন, এক সপ্তাহের এসব এলাকায় ভাঙ্গনে প্রায় তিন একর জমির ফসলি জমি ভেঙ্গে গেছে। অন্তারমোড় এলাকার দুই’শ ফুটেরও অধিক পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে। একই সাথে ভাঙ্গন আতঙ্কে অন্তার মোড় বাঘাবাড়ি, চর দেলন্দি ও বেথুরি এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার অন্যত্র সরে গেছে। সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা বগুড়ার সারিয়াকান্দির নিকট যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় তীব্র স্রোতে চন্দনবাইশা স্পারের অবশিষ্ট অংশ বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর বন্যার সময় যমুনার ভাঙনে চন্দনবাইশা এলাকায় ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজ, শত বছরের জমিদার প্রমদানাথ রায় বাহাদুরের নামে প্রতিষ্ঠিত নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয় , নির্মাণাধীন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, চন্দনবাইশা বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়। নদী ভাঙনের ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে শত শত হেক্টর জমির রোপা আমন, বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়। সোমবার প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে ভাঙন রোধে নির্মিত চন্দনবাইশা স্পারের অবশিষ্ট অংশ বিলীন হয়ে গেছে । উল্লেখ্য, ২০০১ সালে পাউবো ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮০ মিটার স্পারটি নির্মাণ করে । কয়েক বছরে দফায় দফায় নদী ভাঙনের কারণে অবশিষ্ট স্পারটি যমুনায় বিলীন হয়েছে । রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রি পাড়া এলাকায় বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন রোধে ব্লক স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। তদারকি করেছেন গত সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের মহাজোট প্রার্থী ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সাইমুম সরওয়ার কমল। তিনি বলেন, বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গন রোধে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে সদর ও রামু উপজেলার রাজারকুল, চাকমারকুল, ফতেখাঁরকুল ও ঝিলংজাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্লক স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হতে চলেছে। রবিবার পরিদর্শকালে তার সাথে ছিলেন চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিদুল আলম মুফিদ, নুরুল আজিম, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ হাসান, মোঃ শফিউল্লাহ, কলিমউল্লাহ, মোঃ নুরুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।