খুলনায় জমে উঠছে ঈদের বাজার

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩১
খুলনায় ঈদের বাজার জমতে শুরু করেছে। একই সাথে দর্জি দোকানগুলোও দারুণ ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহানগরীর বিপণী বিতানগুলোকে রকমারি পসরায় সাজানো হয়েছে। নগরীর শপিং সেন্টারগুলো ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নগরীর শপিং সেন্টারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। খুলনা মহানগরীর নিউ মার্কেট, খুলনার একমাত্র এয়ার কন্ডিশন্ড শপিংমল, খানজাহান সুপার মার্কেট, জলিল টাওয়ার, রেলওয়ে মার্কেটগুলোতে দিন যতো যাচ্ছে ততোই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এবার ক্রেতাদের বেশি নজর দেশি কাপড়ের দিকে। বিদেশি কাপড়ের ক্রেতার সংখ্যা অন্যবারের তুলনায় একটু কম বলে জানান দোকানিরা। আইন প্রয়োগকারীদের নজরদারির কারণে খুলনার বিপণী বিতানগুলোতে এ বছর ভারতীয় কাপড়-চোপড় তেমন একটা নেই বললেই চলে। যেসব ব্যবসায়ী সরাসরি ভারত থেকে আমদানি করছেন কেবল তারাই কিছু কাপড় দোকানে রেখেছেন। কয়েকজন ক্রেতা জানান, বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশি পোশাকের ডিজাইন এবং কোয়ালিটি অনেকটাই ভাল। দামও বিদেশি কাপড়ের তুলনায় বেশ কম। ফলে তারা বিদেশি কাপড়-পোশাকের চেয়ে দেশি কাপড়-পোশাকের প্রতি আগ্রহী। কারণ হিসাবে তারা জানান, বিদেশি কোন পোশাক কিনলে যে দাম লাগে তার চেয়ে কম দামে আরো ভাল মানের দেশি পোশাক কিনতে পারছি। খুলনা শপিংমলে আলাপকালে ফুলতলা থেকে স্ত্রী নিয়ে আসা মুজিবুল হক জানান, তারা ঠিক করেছেন, এবার তাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয় পরিজনের জন্য দেশি কাপড়-চোপড় ছাড়া বিদেশি কোন পোশাক কিনবেন না। তেরখাদা থেকে আসা ছাবিনা ইয়াসমিন নামে একজন স্কুল শিক্ষীকা অবশ্য হতাশার সাথে বলেন, খুলনায় এসেছিলাম কিছু ভারতীয় শাড়ী-কাপড় কিনতে। কিন্তু তিনটি মার্কেট ঘুরেও কোন দোকানে গিয়ে আশা পূরণ করতে পারিনি। কারণ হিসাবে দোকানিরা তাকে জানান, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘনঘন অভিযানের কারণে তারা ভারতীয় শাড়ী-কাপড় দোকানে তুলতে সাহস পাচ্ছেন না। খানজাহান সুপার মার্কেটের রকমারী পোশাক হাউজের ম্যানেজার ইলিয়াস মাহমুদ জানালেন, বর্তমানে ছোট ছেলে-মেয়েদের পোশাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে। রোজার প্রথম দিকে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছোটদের কাপড়-চোপড় আগেভাগে ক্রয় করা হয়ে থাকে। রোজার শেষদিকে পরিবারের বড়দের জন্য কেনা-কাটা শুরু হবে বলে দোকানিরা ধারণা করছেন। এদিকে ভিড় জমেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। দিনে যেমন তেমন সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশে যেসব কাপড়ের দোকান বসে সেখানে ক্রেতাদের ভিড়ে যানবাহন চলাচল রীতিমত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলার মোড় এবং জলিল টাওয়ারের সামনে সন্ধ্যার পর থেকে রাত নয়-দশটা পর্যন্ত ক্রেতাদের পদভারে ইতিমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে। এখানে কাপড়ের দাম তুলনামূলক যথেষ্ট কম বলে ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি। একইভাবে ‘নিকসন মার্কেট’ হিসাবে পরিচিত নগরীর রেলওয়ে মার্কেটেও ক্রেতাদের ভিড়ও অনেক বেশি। ফকিরহাট থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাসুম মোল্লা জানালেন, নিউমার্কেটে যেসব পোশাক পাওয়া যায় তা নিকসন মার্কেটেও পাওয়া যায়। প্রায় একই মানের পোশাক এ মার্কেট থেকে কিনলে দামের দিক থেকে অনেক কম দামে তা কেনা যায়। তাছাড়া খুলনার মধ্যে পোশাকের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় মার্কেট। এখানে ধনী-গরীব সবধরনের ক্রেতাই আসেন বলে এ মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে দর্জি দোকানগুলোতে পোশাক তৈরির কাজ চলছে সমান তালে। যারা নিজের পছন্দমত ডিজাইন এবং সাইজের পোশাক বানাতে চান তারা রোজার শুরুতেই কাপড় কিনে দর্জি দোকানগুলোতে দিয়ে দিয়েছেন। কারিগরদের তো এখন পিছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। অনেক দর্জি দোকানে ইতিমধ্যে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।