পীরগাছায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩২
রংপুরের পীরগাছায় যৌতুকের বলি হলেন জেসমিন আক্তার (১৯) নামের এক নবগৃহবধূ। অভিযোগ রয়েছে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গত সোমবার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর গলা টিপে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। থানা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার ঐ গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তেয়ানী মনিরাম গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়ার (২৫) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের জেসমিন আক্তারের (১৯) ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের বাবা জামাতাকে ৩০ হাজার টাকা যৌতুক দেন। কিন্তু স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি এতে সন্তুষ্ট ছিল না। যৌতুকের জন্য তারা তাকে প্রায়ই নির্যাতন করত। গত দু’মাস আগে গৃহবধূ জেসমিনকে এক লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দিয়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। গত সোমবার টাকা ছাড়াই স্বামীর বাড়িতে এলে স্বামী রুবেল মিয়া, শ্বশুর আব্দুর রশিদ ও শাশুড়ি জরি বেগম তাকে নির্যাতন করে গলাটিপে ধরে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অবস্থা বেগতিক দেখে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে ঘরের ধরনায় ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী পুলিশকে অবহিত করে। পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঐ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে। গৃহবধূ জেসমিনের বাবা আতোয়ার রহমানের অভিযোগ, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।