রংপুরে ৭০ ভাগ প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৩
উদ্যোগ ও সচেতনতার অভাবে রংপুর বিভাগে প্রায় ৭০ ভাগ প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। রংপুরে শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টি, বাক, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা অনেক। সে তুলনায় তাদের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি। সূত্র মতে, রংপুর বিভাগে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। মূলধারার বিদ্যালয় এবং সবকটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে যেসব প্রতিবন্ধী শিশু লেখাপড়া করছে তাদের সংখ্যা দু’হাজারের বেশি নয় বলে সংশ্লি¬ষ্টদের অভিমত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর জি এল রায় রোডে দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। ঐ স্কুলটিতে অন্যান্য প্রতিবন্ধী বিষয়েও শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এতে করে প্রতিবন্ধীরা কতটুকু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, রংপুরে প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোতে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর শিক্ষা দেয়া হয় না। এতে করে তাদের শিশুরা প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রংপুর শহরের লায়ন্স স্কুল এ্যান্ড কলেজে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের স্কুল পরিচালনা করে আসছে সুইড বাংলাদেশ। সুইড বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব সুশান্ত ভৌমিক জানান, সুইড বাংলাদেশ সারাদেশে ৬৪টি স্কুল পরিচালনা করে আসছে। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ১১টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। রংপুরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে ১শ’ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। সিডিডি সংস্থা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে আসছে। ইশারা ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এই সংস্থাটি। সরকার মূল ধারার বিদ্যালয়গুলোতে সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখলেও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন অনুপাতে না থাকায় সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিবন্ধীরা। দৃষ্টি সংস্থার প্রধান আশিক ইকবাল জানান, সারাদেশের ৬৪টি জেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সমন্বিত দৃষ্টি বিদ্যালয় নামে সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। সমাজ সেবার ২৬টি আবাসিক এবং বাকিগুলো অনাবাসিক। রংপুর জেলার বদরগঞ্জের চন্দনপাটে সরকারি আবাসিক দৃষ্টি বিদ্যালয় আছে। সেখানে রয়েছে একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত রিসোর্স শিক্ষক। প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন জানান, রংপুরে সর্বমোট কতজন প্রতিবন্ধী আছে তার জরিপ হয়নি। তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠান আছে, যন্ত্রপাতি নেই, যন্ত্রপাতি আছে শিক্ষক নেই। উদ্যোগ আছে তো শিক্ষক নেই। তার মতে, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ জানান, প্রতিবন্ধীদের জরিপের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।