রাজধানীর ইফতারি বাজার

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫১
রাজধানীর সবচেয়ে আলোচিত ইফতারি বাজার চকের বিক্রেতাদের হাঁকডাক শুরু হয় দুপুর ২টা থেকেই। শুধু চকবাজারই নয়, রমজানকে কেন্দ করে রাজধানীর ফুটপাত থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতেও এখন জমজমাট ইফতারি বাজার বসছে। পিঁয়াজু থেকে দইবড়া, হালিম থেকে ফিরনি, বিভিন্ন মাংসের রোস্ট, কাবাবসহ নানা বাহারি নামের ও স্বাদের খাবার দিয়ে সাজানো এসব ইফতারি বাজার। রোজাদারদের রসনা মেটাতে যেন আয়োজনের কমতি নেই। আর এই ইফতারি বাজারকে কেন্দ করে বদলে গেছে পরিচিত দৃশ্য। চকের যে জায়গায় ইফতারি বাজার বসে সেটি কোন বাজার নয়, এটি আসলে রাস্তা। পুরো রমজান জুড়ে এখানেই ইফতারি বাজার বসে। নানা বাহারি নামের ও স্বাদের খাবার পাওয়া যায় এখানে। চকবাজারের আলোচিত খাবারের মধ্যে রয়েছে, ‘বড়বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’, খাসী ও গরুর বিভিন্ন ধরনের কাবাব, রোস্ট, শরবত, দইবড়া, ভেজিটেবল রোল, টানা পরোটা, প্লেন পরোটা ও শাহী জিলাপিসহ আরো নানা খাবার। এখানে বিভিন্ন খাবারের মধ্যে খাসির পায়ের রোস্ট প্রতিটি ৩’শ থেকে ৩৫০, মুরগির রোস্ট আকারভেদে ৪’শ থেকে ৭’শ, কোয়েল পাখির রোস্ট ৮০ থেকে ১’শ, শাহি হালিম বড় হাড়ি ৩০০ ও ছোট হাঁড়ি ১২০ টাকা, দইবড়ার বাটি আকারভেদে ১২০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চকবাজারের পরেই রাজধানীর আরেক জমজমাট ইফতারি বাজার হলো বেইলী রোড। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ক্রেতারা ছুটে আসেন নানা পদের ইফতারি কিনতে। এখানেও পাওয়া যাচ্ছে শত পদের ইফতারি, বিক্রিও ভালো। এই এলাকায় বিভিন্ন ইফতারি দোকানের মধ্যে অন্যতম ফখরুদ্দীন। এখানে নানা পদের খাবারের মধ্যে হালিম, জর্দা, কাবাব, তেহারি ও বিরিয়ানি অন্যতম। এরমধ্যে কাচ্চি বিরিয়ানি ২৩০ টাকা, গরুর তেহারি ১৭০ টাকা, খাসির হালিম (বাটি আকারভেদে) ৫০০ ও ৩০০ টাকা, মুরগির হালিম ৬০০ ও ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার এখানে ইফতারি কিনতে এসেছিলেন বাংলামোটর এলাকার বাসিন্দা হাসনাত। তিনি বলেন, ফখরুদ্দীনের বেশ নাম আছে। তাই এখান থেকে ইফতারি কিনতে এসেছি। তিনি হালিম আর কাবাব কিনবেন বলে জানালেন। বেইলী রোড়ের আরেক বড় ইফতারি দোকান ক্যাপিটাল কনফেকশনারি। এখানে কয়েক রকমের কাবাব ছাড়াও রয়েছে পরোটা, জিলাপি, সবিজবড়া, ডিমের হালুয়াসহ নানা পদ। এরমধ্যে বটি কাবাব ৮০ টাকা, রেশমি কাবাব প্রতিটি ১০০ টাকা, খাসির পা রোস্ট ৩৫০ টাকা, মুরগি গ্রিল ৩০০ টাকা, রোস্ট ২৫০ টাকা, সুতি কাবাব ৬০০ টাকা কেজি, মুরগির ঝাল ফ্রাই ৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া টানা পরোটার প্রতিটি ২০ টাকা কিমা পরোটা ৬০ টাকা, জিলাপি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাপিটাল কনফেকশনারির মুহাম্মদ জালালউদ্দিন বলেন, আমরা সবসময় ক্রেতাদের চাহিদা গুরুত্ব দেই। এবারের রমজানে শতাধিক রেসিপি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে রেসিপির সংখ্যা আরও বাড়বে। বেইলী রোড়ের স্কাইলার্ক, বেইলি বারবিকিউ, বেইলি পিঠাঘর ও ওয়াইজ কর্নারেও বিক্রি হচ্ছে নানা পদের ইফতারি। ওয়াইজ কর্নারের ম্যানেজার ফারুক জানালেন, কেবল রমজানের শুরু, এরমধ্যে আবার হরতাল। তারপরও বিক্রি ভালো। সামনে বিক্রি আরো বাড়বে বলে তিনি জানান। রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডির স্টার কাবাব, লাজিজ, এইচএফসি, পিন্টু মিয়ার শাহি ইফতারি, কলাবাগানের মামা হালিম, আম্বালা, খাজানাসহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁর পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, ওয়েস্টিন ও র্যাডিসনে নানা পদের ইফতারি পাওয়া যাচ্ছে। রমজানকে কেন্দ করে রাজধানীর ফুটপাতে গড়ে উঠেছে জমজমাট ইফতারি বাজার। এসব দোকানে বেচাবিক্রি বেশ ভালো। মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ইফতারি বিক্রি করেন আলম। তিনি বলেন, হরতালের কারণে বিক্রি একটু কম। তবে অন্যদিন বিক্রি বেশ জমজমাট। পথচলতি মানুষ ছাড়াও আশেপাশের দোকানীরাও তার ক্রেতা বলে জানান।