বিদ্যুত্ সংকটে কক্সবাজার বেতারে সম্প্রচার ব্যাহত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৪
কক্সবাজারের জনপ্রিয় সরকারি গণমাধ্যম বেতারের অনুষ্ঠান চলছে বিদ্যুত্ বিভাগের দয়ায়। বিদ্যুত্ থাকলে অনুষ্ঠান চলে, না থাকলে চলে না। প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা অনুষ্ঠান সমপ্রচার বন্ধ থাকছে কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রে। জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির বরাদ্দ এবং বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছে এ অবস্থা । বেতারের কয়েকজন শিল্পী জানান, কক্সবাজার বেতারকেন্দ্রে প্রতিদিন দুপুর পৌণে বারোটা থেকে বিকাল পৌণে পাঁচটা পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ঘন্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার চলে। কিন্তু বর্তমানে লোডশেডিং-এর কারণে পাঁচ ঘন্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ থাকছে। বেতারের সেন্ট্রাল এসি অকেজো। অনুষ্ঠান চলাকালীন স্টুডিওর ভেতরে অসহ্য গরমের মধ্যে শিল্পী, ঘোষক-ঘোষিকা এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজ চালাতে হচ্ছে। অনুষ্ঠানের মানও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। শিল্পীদের অভিযোগ, এসি মেরামতের নামে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাত্ করা হয়েছে। বেতারের উপ-আঞ্চলিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান জানান, প্রথম শ্রেণীর কেপিআই হলেও এ কেন্দ্রে বিদ্যুতের সরাসরি সংযোগ না থাকায় লোডশেডিং বা দুর্যোগকালীন সময়ে জেনারেটর দিয়ে চালাতে হয়। বর্তমানে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির বরাদ্দ নেই। ফলে প্রতিদিন লোডশেডিং চলাকালে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা অনুষ্ঠান সমপ্রচার বন্ধ থাকছে। জ্বালানির বরাদ্দ চেয়ে মহাপরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী বরাবর একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। এসি মেরামতের অর্থ আত্মসাত্-এর বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, বর্তমানে এসি সচল আছে। জ্বালানির অভাবে লোডশেডিং চলাকালে এসিও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে গত তিন মাস ধরে অনুষ্ঠান বিভাগে নতুন অনুষ্ঠান রেকর্ডিং বন্ধ রয়েছে । বর্তমানে অনেকটা পুরনো অনুষ্ঠান দিয়েই চলছে কক্সবাজার বেতার। এ ছাড়াও নানা অনিয়ম ও নানান সংকটের কারণে বর্তমানে এ কেন্দ্রটি বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কক্সবাজার বেতার শিল্পী সম্মিলন পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দিন বকুল জানান, অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও গত জোট সরকারের বিমাতা সুলভ আচরণে এ কেন্দ্রটির বেহাল অবস্থা। ২০০১ সালের ২৪ মার্চ তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দশ বছর পূর্ণ হলেও কক্সবাজার বেতারের এখনও পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি। তিনটি বিভাগে ৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাত্র চারজন কর্মকর্তা ও ২৯ জন দৈনিক মজুরির ভিত্তিক কর্মচারী দিয়েই খুঁটিয়ে চলছে কক্সবাজার বেতার। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব রক্ষক, নিজস্ব যন্ত্রী, সংগীত পরিচালক বা প্রযোজক, টেকনিশিয়ান কিছুই নেই। একজন সংগীত সংকলক দিয়ে চালানো হচ্ছে যাবতীয় কাজ। আঞ্চলিক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সুমনকান্তি নাথ জানান, অনুষ্ঠানের জন্য বাজেট না আসায় গত মে মাস থেকে নতুন অনুষ্ঠান রেকর্ডিং বন্ধ রয়েছে। তবে বিশেষ দিবসের অনুষ্ঠান রেকর্ডিং চলছে। বাজেট আসলেই আবার রেকর্ডিং শুরু হবে।