খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৯
আজ ৭ রমজান। এই রমজান মাসে যারা অসুস্থ থাকবে ও সফরে থাকবে তারা সেই দিনগুলো গণনা করে রোজার পরে তার কাযা আদায় করবে। তেমনিভাবে যারা অতি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তারাও রোজা কাযা করে প্রতিদিন একজন মিসকিন খাওয়াতে পারবে। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে- যারা রোজা রাখার সামর্থ্য রাখে না তারা একজন মিসকিনকে খাবার দেবে (সূরা বাকারা ১৮৪ আয়াত)-এর ব্যাখ্যায় কুরআনের সবচেয়ে বড় পণ্ডিত রইসুল মুফাসসিরীন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এ হুকুম হলো অতি বৃদ্ধ নর-নারীর জন্য। যারা রোজা রাখতে সমর্থ নয়। ফলে তারা প্রত্যেক দিনের বদলে একজন করে মিসকিন খাওয়াবে। রসূলুল্লাহ (স.) এর খাদেম আনাস (রা.) বৃদ্ধ হয়ে গেলে এক বছর কিংবা দু’বছর রোজা না রাখতে পারায় তিনি প্রতিদিন একজন করে মিসকিনকে রুটি ও গোশত খাওয়ান (বুখারী ৬৪৭ পৃঃ)। উক্ত আয়াতেরই ব্যাখ্যায় সাঈদ ইবনে জুবাইর (রহ.) বলেন, যদি কোনো বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা মিসকিন খাওয়াবার সামর্থ্য না রাখেন তাহলে তাদের দু’জনের ওপর কোন দায়িত্বই থাকবে না (মুসান্নাফ আঃ রাযযাক, ৪র্থ খণ্ড-২২৩ পৃঃ)। অর্থাত্ তারা রোজা রাখবে না এবং মিসকিনও খাওয়াবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে রোগী হবে কিংবা সফরে থাকবে সে (রমজানের পর) অন্য দিনগুলোতে রোজা রাখতে পারবে” (সূরা বাকারা ২ঃ১৮৪ আয়াত)। এক সাহাবী হামযাহ ইবনে আমর আসলামী (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রসূল (স.)! আমি সফরে রোজা রাখার ব্যাপারে নিজের মধ্যে শক্তি পাই। তাহলে আমার ওপরে কোন আপত্তি হবে কি? তিনি (স.) বললেন, এটা আল্লাহর তরফ থেকে একটা ছাড়। অতএব ঐ ছাড়টা যে গ্রহণ করে সেটা তার জন্য ভাল কাজই হবে। আর যে ব্যক্তি রোজা রাখতে পছন্দ করে তার ওপরে কোন আপত্তি নেই (মুসলিম ১ম খণ্ড-৩৫৭ পৃঃ মেশকাত ১৭৮পৃঃ, দারাকুতনী ২৪২, পৃঃ নাসাঈ ১ম খণ্ড ২৪৭পৃঃ)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘যে ব্যক্তি (রমজান মাসে) অসুস্থ থাকবে সে রমজানের পর অন্য দিনগুলোতে (ঐ কাযা) রোজা রাখবে (সূরা বাকারা ২ঃ ১৮৫ আয়াত)। এ ব্যাপারে নবী (স.) বলেন, যে ব্যক্তি রমজানে অসুখে পড়লো অতঃপর সে রোগীই থাকলো, পরিশেষে মারা গেলো তার পক্ষ থেকে মিসকিন খাওয়াতে হবে না। যদি সে সুস্থ হয়ে যায়, তারপরও কাযা রোজা না রেখে মারা যায় তাহলে তার তরফ থেকে মিসকিন খাওয়াতে হবে (মুসান্নাফ আঃ রাযযাক ৪র্থ খণ্ড, ২৩৭ পৃঃ)। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে (রহ.) জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো রোগী কখন রোজা রাখবে না? তিনি বলেন, যখন তার পক্ষে সম্ভব হবে না। বলা হলো যেমন- জ্বর? তিনি বললেন, কোন রোগ জ্বরের চেয়ে বেশী কঠিন? (আল মুগনী, ৩য় খণ্ড ১৪৭পৃঃ) যারা চিররোগী এবং যারা কায়িক পরিশ্রম করে। যেমন- কয়লা খনির শ্রমিক, তারা রোজা কাযা করবে এবং মিসকিন খাওয়াবে। (ফিকহুস সুন্নাহ -১ম খণ্ড-৪৪০পৃঃ) রসূলুল্লাহ (স.) বলেন ঃ যে ব্যক্তি মারা গেলো এবং তার ওপর কাযা রোজা বাকি ছিলো, যা তার অভিভাবককে আদায় করতে হবে (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত, ১৭৮ পৃঃ)। সুতরাং যারা এই পবিত্র রমজানুল মোবারকে উপরোক্ত সমস্যায় নিপতিত হবেন তারা কুরআন ও হাদীসের উক্ত নির্দেশিকা মেনে চলার চেষ্টা করবেন। আর আমরা যারা সুস্থ শরীরে রোজা পালন করছি তারা যেন রোজার প্রতিটি আরকান ও আহকাম মেনে চলার মাধ্যমে রাব্বুল আলামীনের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে পারি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমীন। ই-মেইল ঃ [email protected]