একটু একটু করেই নাট্যাঙ্গনে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন অভিনেত্রী হিমু। মিডিয়াতে তার পুরোদস্তুর ব্যস্ততার বয়স কয়েকটি বছর হলেও ছোটবেলা থেকেই হিমু অভিনয়ের সাথে জড়িত। সময়ের এই আলোচিত অভিনয়শিল্পী এবার মুখোমুখি আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন
আশীষ সেনগুপ্ত
তুলনামূলকভাবে সময়টা আপনার জন্য পজেটিভ না নেগেটিভ?
আমার জন্য বললে তো সব সময়ই পজেটিভ। অতীত-বর্তমান—সব সময়ই আমি ভালো থেকেছি। ভবিষ্যতে তা-ই থাকব আশা করি। কেননা আমি বরাবরি পজেটিভ চিন্তাটাই করি। সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই মানুষের ধর্ম। সময়ই মানুষকে বলে দেয়, পথিক পথ ওদিকে নয়, পথ এদিকে। সুতরাং যে অবস্থায়ই হোক বা যে কারণেই হোক নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বড় ব্যাপার এবং আমি তা-ই করি।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। বর্তমানে অনেকগুলো ধারাবাহিক এবং এক খণ্ডের নাটকে কাজ করছি। এ ছাড়া কয়েকটি নাটক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে। আর ঈদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। ঈদে আমার বেশ কয়েকটি নাটকে প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। মিডিয়ায় কাজ করতে এসেছিলাম ভালোলাগা থেকে, সেই ভালোলাগার কাছে সত্ থাকতে চাই এবং পরিশ্রম করতে চাই নিজেকে আরও প্রমাণ করার জন্য।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোয়, সেক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ। আমি সব সময়ই ধারাবাহিক নাটক থেকে এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে, তাই আমার মতো অনেক অভিনয়শিল্পীরই এক ঘণ্টার নাটক বেশি পছন্দের। আর এক ঘণ্টার নাটকে চরিত্রের মাঝে ভিন্নতা থাকে বলে এতে অভিনয়ের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
ব্যক্তিগত জীবন ও মিডিয়া—দুটি সামাল দেন কীভাবে?
বর্তমানে মিডিয়াতে এতটাই ব্যস্ত সময় কাটছে যে, মিডিয়াই এখন আমার ব্যক্তিগত জীবন হয়ে গেছে। এখানেই নিজের হাসি-কান্না, আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ পায়, তবে এ জন্য মাঝে মাঝে নিজেকে পরিবার থেকে একটু দূরে চলে আসা মানুষ বলে মনে হয়। কিন্তু তারপরও দুটো ক্ষেত্রকেই আমি সমানভাবে মিলিয়ে রাখার চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রে আমার পরিবারেরও একটি বিশাল সাপোর্ট রয়েছে।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
নাগরিক আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, তবে নাগরিক বেদনা খুঁজে নেওয়া লাগে না, তা যেন স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানান প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না। সবশেষে আমার দেশকে আমি একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে দেখতে চাই।
