বলিউডে পা রাখার পর অল্প সময়ের মধ্যে বেশ অনেকটা এগিয়ে গেছেন হুমা কুরেশি। ইতোমধ্যে তার অভিনীত তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। সুন্দরী ও মেধাবী অভিনেত্রী হিসেবে দর্শক-সমালোচক সবার অকুণ্ঠ প্রশংসা লাভ করেছেন তিনি। একজন সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে প্রশংসার পাশাপাশি কয়েকটি পুরস্কারও ঝুলিতে পুরেছেন হুমা। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, বলিউডি গতানুগতিক রোমান্টিক নায়িকা ইমেজের বাইরে অভিনীত ছবিগুলোতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ট্র্যাকের চরিত্রে সফল রূপায়নের মাধ্যমে তিনি নিজের স্বাতন্ত্র্য প্রমাণ করেছেন। হুমা জানান দিয়েছেন এই সময়ের অন্য অনেক নায়িকার মতো নন তিনি। এ সপ্তাহে তার নতুন আরেকটি ছবি ‘ডি ডে’ মুক্তি পাচ্ছে। এখানে হুমা কুরেশিকে দেখা যাবে দুর্দান্ত অ্যাকশন লেডিরূপে। যা দর্শকদের আবারও চমকিত করবে সন্দেহ নেই। হুমার অ্যাকশনধর্মী অভিনয় এবং ক্যারিয়ারের নানা দিক নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ‘শর্টস’ নামের একটি ছবি, যার তেমন প্রচারণা ছিল না। পাঁচজন পৃথক চিত্রনির্মাতার পাঁচটি আলাদা শর্ট ফিল্মের সংকলন ‘শর্টস’। এর মধ্যে একটি শর্ট ফিল্ম ‘সুজাতা’য় অভিনয় করেছেন হুমা কুরেশি। ছোটবেলায় নানা নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার এক তরুণীর মানসিক বৈকল্যের বিষয়টি এখানে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। এখানে সুজাতা চরিত্রে হুমা অভিনয় করেছেন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং মনোভাব নিয়ে। বলিউডের বাণিজ্যিক সিনেমার ভিড়ে হয়তো ‘সুজাতা’র মতো স্বল্প দৈর্ঘ্যের একটি চলচ্চিত্র তেমন আলোচিত হচ্ছে না। তবে বোদ্ধা দর্শকদের মধ্যে ‘সুজাতা’সহ অন্য চারটি শর্ট ফিল্মে অভিনয়ের মাধ্যমে যুক্ত হতে পেরে হুমাও দারুণ খুশি। ‘আমার ভীষণ ভালো লাগছে আমি আমার ক্ষুদ্র চেষ্টার মাধ্যমে ‘শর্টস’ ছবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি। এক ধরনের ভালো লাগা অনুভূতি আমার মন জুড়ে ছড়িয়ে আছে, আমি গর্ব অনুভব করছি এ জন্য’, তিনি বলেন। ‘শর্টস’ নিয়ে বলিউডে তেমন তোলপাড় সৃষ্টি না হলেও হুমা কুরেশি অভিনীত ‘ডি ডে’ ছবিটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহলী করেছে। ‘কাল হো না হো’ খ্যাত পরিচালক নিখিল আদভানি পরিচালিত সাসপেন্স থ্রিলার ‘ডি ডে’-তে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, ঋষি কাপুর, ইরফান খান, শ্রুতি হাসান এবং হুমা কুরেশি।
দর্শক এর আগে হুমা কুরেশিকে ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’, ‘লাভ সাব সে চিকেন খুরানা এবং ‘এক থি ডায়ান’-এ দেখেছেন বিচিত্র সব চরিত্রে। যার সঙ্গে বলিউডের গতানুগতিক রোমান্টিক নায়িকা চরিত্রের তেমন কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। যেমন, বহুল আলোচিত ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’ ছবিতে একজন সিনেমাপাগল যুবতী গৃহবধূর চরিত্রে রূপদান করেন হুমা, যেখানে তাকে বেশ স্থূলকায়ারূপে পর্দায় উপস্থিত হতে দেখা গেছে। ভারী শরীর নিয়ে চরিত্রটি রূপায়ন করতে মোটেও দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে হুমা বলেন, ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এ আমি সুন্দরী একটা মেয়ের চরিত্রের রূপদান করেছি, ওটা নিঃসন্দেহে একটা গ্ল্যামারাস রোল ছিল। ওদিকে ‘এক থি ডায়ান’-এ আমিই ছিলাম নায়িকা। এ পর্যন্ত আমার যতগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছে তার সবগুলোতেই আমি সুন্দরী মেয়েরূপেই উপস্থিত হয়েছি। হ্যাঁ, আমার ফিগার নিয়ে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, কিছু মানুষ রয়েছেন যারা নায়িকাদের সাইজ জিরো ফিগারে দেখতে চান সব ছবিতেই। কিন্তু সব ছবির নায়িকা চরিত্রগুলো কি একরকমের—এটা কি তারা ভেবেছেন!’
নিজের স্থূল দেহ নিয়ে মোটেও বিব্রত নন হুমা কুরেশি। এটাকে কোনো ঝামেলা বা সমস্যা মনে করেন না তিনি। ‘আমি ফিগার নিয়ে মোটেও ভাবি না, অভিনীত চরিত্রটির সঙ্গে আমি কতটা মানিয়ে গেছি সেটাই হলো আমার বিবেচনার বিষয়। আমি একজন অভিনেত্রী। আমি না খেয়ে অনাহারে কাটাতে চাই না’, হুমা বলেন। ২৬ বছর বয়সী হুমা কুরেশি তার নতুন ছবি ‘ডি ডে’তে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি চরিত্রে দর্শকদের সামনে আসছেন। এখানে তিনি অভিনয় করেছেন ভারতীয় র’ এজেন্টের সহযোগী জয়া রেহমানের চরিত্রে। একজন বোমা বিশেষজ্ঞরূপে হুমাকে দেখা যাবে এ ছবিতে। ‘ডি ডে’ ছবিতে তাকে অনেকগুলো চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছে। যা শুধুমাত্র চ্যালেঞ্জিং ছিল না, তার জন্য ঠিকভাবে দৃশ্যগুলোতে পারফর্ম করাটা বেশ কঠিন কাজও ছিল। ‘অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে কাজ করাটা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল, কিন্তু তার চেয়ে বেশি সিরিয়াস ছিলাম আমি আমার র’ এজেন্টের লুক নিয়ে, অভিনয়ের সময় আমি আমার চরিত্রটি মাথায় রাখতাম, অ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে কাজ করার সময়েও আমি ভুলিনি কথাগুলো’, অভিনয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন হুমা কুরেশি।
‘ডি ডে’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে অ্যাকশন ছবিতে কাজ করার ব্যাপারে ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন হুমা। আগামীতেও অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করতে চান তিনি। তবে খুব ভালো উন্নতমানের অ্যাকশন ছবি না হলে তাতে কাজ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছন হুমা। ‘ডি ডে’ ছবিতে ঋষি কাপুর, ইরফান খান, অর্জুন রামপালের মতো গুণী প্রতিষ্ঠিত অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ভীষণ আনন্দিত এই তন্বী অভিনেত্রী।
‘ঋষি কাপুর আমার প্রিয় অভিনেতা, তার সঙ্গে এ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক মজা করেছি, আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি। আসলে তিনি একজন ছোট্ট শিশুর মতো, কাজের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। ইরফান খান আসলেই একজন গ্রেট পারফর্মার, তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে চমকিত হয়েছি, তার মতো একজন অভিনেতাকে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়াটা ছিল আমার জন্য আশীর্বাদের মতো। অর্জুন রামপালকে এই সময়ের সেরা সুদর্শন এবং যোগ্য অভিনেতা মনে হয়েছে আমার কাছে’, নিজের উপলব্ধির কথা এভাবে প্রকাশ করেন হুমা কুরেশি।
ওদিকে ‘ডি ডে’ ছবির অন্যতম প্রধান তারকা গুণী অভিনেতা ইরফান খান প্রথমবারের মতো হুমার সঙ্গে অভিনয় করে ভীষণ মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি হুমার সৌন্দর্য এবং অভিনয় ক্ষমতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। ইরফান খান বলেছেন, ‘হুমা নিঃসন্দেহে দারুণ সুন্দরী এবং একজন মেধাবী অভিনেত্রী। আমি আগামীতে তাকে কমার্শিয়াল ছবিতে আরও অনেক বেশি দেখতে চাই।’ এ প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হুমা বলেন, ‘সবাই আমাকে কমার্শিয়াল ছবিতে অভিনয় করতে বলছেন। এর মধ্যে অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্স বিভিন্ন স্বাদের ছবি থাকতে পারে। আমি রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের ছবিও করতে চাই। এ ধরনের ছবিকে আমি কোনোভাবেই হালকা মনে করি না, যথাযথভাবে চরিত্রগুলো রূপায়ন সহজ কাজ নয়, বরং এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। যাই হোক আমার পরবর্তী ছবিটি হবে টিপিক্যাল কমার্শিয়াল কমেডি ধাঁচের—এ ব্যাপারে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এবার আমি কমেডির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তুলছি।’
‘ডি ডে’ ছবিতে হুমা কুরেশিকে দুটি নারী চরিত্রের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এই দুটি চরিত্রের মধ্যে একটি অ্যাকশনধর্মী আর একটি ইমোশনাল অভিনয়ে সমৃদ্ধ। অনেকেই ধারণা করেছিলেন হুমা ইমোশনাল ধাঁচের চরিত্রটি বেছে নেবেন নিজের জন্য। কিন্তু সবাইকে অবাক করে তিনি অ্যাকশনধর্মী চরিত্রটি বেছে নেন। এ ছবির পরিচালক নিখিল আদভানি হুমার উপর আস্থাশীল ছিলেন। হুমা বলেন, ‘অ্যাকশন ছবিতে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না আমার। আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এরপর অস্ত্র হাতে নিয়ে গোলাগুলি করা, হাতাহাতি যুদ্ধ করা, লাফ দেওয়া সবই শিখতে হয়েছে আমাকে। সব মিলিয়ে ডি ডে, আমার অভিনয় জীবনে চমত্কার এক অভিজ্ঞতা সন্দেহ নেই।’ হুমা কুরেশি বর্তমানে মাধুরী দিক্ষিতের সঙ্গে ‘ঢেড় ইশকিয়া’ ছবিতে অন্যতম প্রদান একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন। এ বছরেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
