মাথায় বাঁকানো হ্যাট, চোখে কঠোর দৃষ্টি কিন্তু ঠোঁটে হালকা হাসির আভাস পাওয়া যায়। মজার মজার কথা আর কর্মকাণ্ড করেন তিনি সবসময়। নিজেকে সবার সামনে ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। ঠিক এই বেশে ‘দ্য পাইরেটস অব ক্যারিবিয়ন’ সিনেমায় জনি ডেপকে দেখে অভ্যস্ত সবাই। কিন্তু তাই বলে যে তিনি অন্য কিছু পারেন না এমনটা ভাবা ভুল। সেই প্রমাণ দিতেই পর্দায় হাজির হলেন, ‘দ্য লোন রেঞ্জার’ সিনেমাটি নিয়ে। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
২০০৭ সালে প্রথম ‘দ্য লোন রেঞ্জার’ সিনেমাটিকে নিয়ে কাজ করার কথা চিন্তা করা হয়েছিল। এন্টারটেইনমেন্ট রাইটস ও প্রযোজক জেরি ব্রুকহেইমার ওয়াল্ট ডিজনির সঙ্গে ‘লোন রেঞ্জার’ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। আর হোম-ভিডিও বিভাগ জেনুইন প্রডাক্টস ‘লোন রেঞ্জার’-এর স্বত্বাধিকারী ব্রিটেনভিত্তিক এন্টারটেইনমেন্ট রাইটসের সহযোগী হয়। সেইসময়, ২০০৭ সালের মে মাসে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারাবিয়ান’ সিরিজের চিত্রনাট্যকার টেড ইলিয়ট ও টেরি রোজিওকে চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর ঠিক পরের বছর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল জনি ডেপ এই ছবিতে অভিনয় করবেন। এ কারণে ‘লোন রেঞ্জার’-এর কাজ কিছুটা পিছিয়ে পরে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে মুক্তি পেল জনি ডেপের ‘দ্য লোন রেঞ্জার’। মুক্তির সাথে সাথেই বেশ ভালো রকমের সাড়া ফেলে দিয়েছে ‘দ্য লোন রেঞ্জার’। জনি ডেপের ছবি বলে কথা!
সিনেমার গল্পে যা দেখা যায়
গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্র। দেশে দ্রুত তৈরি হচ্ছে রেলপথ। আর সে জন্য প্রয়োজন জমির। এর মধ্যে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান একের পর এক জমি দখল করা শুরু করে। শুরু হয় দুর্নীতি আর অরাজকতার এক দুরূহ সময়। এরমধ্যে সেই গ্রামেরই এক যোদ্ধাকে দেখানো হয়। আদিবাসী কোমাঞ্চি এ যোদ্ধা টন্টো (জনি ডেপ) এসব দুর্নীতি দেখেও চুপ করে থাকে। শহরে আসা নতুন শেরিফ জন রেইডকে (আর্মি হ্যামার) তিনি জানান দুর্নীতির কথা। টন্টোর কাছে এসব অপ্রকাশিত দুর্নীতির কথা শুনে আইনের মানুষ রেইড আর নিজেকে সামলাতে পারে না। শুরু করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আর এই সংগ্রামে তার সঙ্গী হয় টন্টো। তারা হয়ে ওঠেন অঘোষিত বিচারক।
আদিবাসী আমেরিকান ইন্ডিয়ান স্পিরিট ওয়ারিয়র টোন্টো (জনি ডেপ) ‘দ্য লোন রেঞ্জার’ কাহিনীর কথক। তিনি জানান কিভাবে জন রাইড (আর্নি হ্যামার) নামের একজন টেক্সাস রেঞ্জার আর সে মিলে একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। আর এভাবে জন একসময় লোন রেঞ্জার হিসেবে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিল। এক মেলাতে একটি শিশু তার হিরো ‘দ্য লোন রেঞ্জার’-এর বেশে সেজে এসেছিল। ওয়াইল্ড ওয়েস্ট নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীতেই তার আগ্রহ। এই প্রদর্শনীরই একটি বিশেষ অংশ হলো একটি তাঁবুতে (টিপি) এক বুড়ো ইন্ডিয়ান ওয়ারিয়র। ছেলেটি জেনে অবাক হয় যে সেই বুড়োই আসলে সেই টন্টো। ছেলেটি তার সঙ্গে কথা বলা শুরু করল আর টন্টোও বলা শুরু করে কিভাবে জন রাইডের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়েছিল আর কখন লোন রেঞ্জার মুখোশ পরা শুরু করে। নানা ধরনের সব অ্যাকশন ও মজাদার ঘটনার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প।
১৯৩৩ সালের জনপ্রিয় ব্রিটিশ এক রেডিও নাটক অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার কমেডি ‘লোন রেঞ্জার’। গোর ভারবিন্সকি পরিচালিত ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই উঠে এসেছে শীর্ষে।
মাঝখানে আবার, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে সিনেমাটি নিমার্ণের কথা আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে নির্মাণ পেছানোর ঘোষণা আসে। এরপর ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণ শুরু হয়। প্রথমে মুক্তির তারিখ ছিল ২১ ডিসেম্বর এবং পরে ২০১৩ সালের ৩১ মে। পরে তা আবারও পিছিয়ে ৩ জুলাই করা হয়।
‘দ্য লোন রেঞ্জার’-এ টাইটেল চরিত্রে আর্মি হ্যামার অভিনয় করলেও মূল আকর্ষণ জমেছে জনি ডেপের অভিনয়েই। ছোট পর্দার ‘গসিপ গার্ল’ সিরিজের অভিনেতা আর্মি হ্যামার টাইটেল চরিত্রকে কতটা ফুটিয়ে তুলতে নির্ভর করেছেন জনি ডেপর ওপর। কারণ কাহিনীর স্বার্থেই দুজনের অভিযান এক সূত্রে গাঁথা। এ ছবিতেও জনি ডেপের মেকআপ অনেকটা কিম্ভুতকিমাকার। মুখে সাদা রং, মাথায় বাজপাখি বসানো চেহারা অ্যাডভেঞ্চার মুভিটিকে কমেডির স্বাদ দিয়েছে। এক সাক্ষাত্কারে জনি ডেপ বলেছেন, ‘টন্টো চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে সত্যি গর্ববোধ করছি। আমি সব মার্কিন শিশুকে জানাতে চাই, তারা একটি যোদ্ধা জাতির সন্তান।’
এই ছবিটির পরিচালক গোর ভারবিনিস্কি। ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ চলচ্চিত্রগুলোর জন্য খ্যাত গোর ভারবিনিস্কি পরিচালিত ওয়েস্টার্ন চলচ্চিত্র ‘দ্য লোন রেঞ্জার’। ‘র্যাঙ্গো’, ‘দ্য ওয়েদার ম্যান’, ‘দ্য মাউসহান্ট’ এবং ‘দ্য মেক্সিকান’ ভারবিনিস্কি পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্র। ১৯৩৩ সালের ‘দ্য লোন রেঞ্জার’ নামের মূল রেডিও শো অবলম্বনে টিভি সিরিজ এবং একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
