সৃষ্টির তৃপ্তিতে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ১৯:২০
বৈচিত্র্যময় কাজের জন্য তিনি অল্প সময়েই দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। আর নিজের ক্যারিয়ারে নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু দর্শকনন্দিত নাটক। বলছি, সবার প্রিয় নাট্য পরিচালক সৈয়দ জামিমের কথা। বর্তমানে তার নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘চেনা পথ অচেনা গলি’ এশিয়ান টিভিতে প্রচার হচ্ছে। তার নাট্যজীবনের কথামালা নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ মিডিয়ার তার পথচলা শুরু খ্যাতিমান নির্মাতা ফেরদৌস হাসান রানার হাত ধরে। তার সাথে যুক্ত হওয়ার গল্পটাও বেশ মজার। সৈয়দ জামিমের ভাষ্যে, ‘আমি তখন ডেইলি সোপ ‘মহানগর’-এর প্রধান সহকারী পরিচালক আর এর পরিচালক ছিলেন আমার গুরু ফেরদৌস হাসান ও সাজ্জাদ সুমন। কিছুদিন যাওয়ার পর রানা ভাই সাজ্জাদ সুমনের স্থানে আমাকে প্রবেশ করায়। শুরু হয় আমার পরিচালনার নতুন জীবন আর এর জন্য আমি রানা ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ছি আর থিয়েটার করছি। হঠাত্ সেই বন্ধুই আমাকে প্রস্তাব দেয় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার জন্য, আমি রাজি হই এবং শুরু করি মাসুম আজিজের সাথে পথ চলা। এরপর কাজ করতে গিয়ে নাটক ও এর নির্মাণ সম্পর্কে ধীরে ধীরে জানলাম ও বুঝলাম।’ নাটক নির্মাণ শিখে সৈয়দ জামিম বানাতে শুরু করলেন বিচিত্র সব নাটক। যেগুলো দর্শকনন্দিত হয়েছে। এরমধ্যে ‘মহানগর’, ‘সে আমার একলা পাখি’, ‘সাদা কাগজ’, ‘টাকার বৃত্ত’, ‘শুভ্র সকাল’, ‘পথ জানা নাই’, ‘কেমন আছো তুমি’, ‘আমার অকাল বসন্তকাল’, ‘সহজ মানুষ’, ‘সাত কন্যা’ উল্লেখ্যযোগ্য। বর্তমানে তার পরিচালনায় ‘চেনা পথ অচেনা গলি’ নামের ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে। শিগগিরই প্রচার শুরু হবে এশিয়ান টিভিতে ডেইলি সোপ ‘একদিন প্রতিদিন’। এ ছাড়া ঈদের নাটক নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এরইমধ্যে শেষ করলেন ‘একটা কথা ছিল বলবার’ নামের একখণ্ডের নাটকের কাজ। কোনো নাটক নির্মাণের পূর্বে আপনার মধ্যে কী কী বিষয় কাজ করে জানতে চাইলে জামিম বলেন, ‘প্রথমত পাণ্ডুলিপি। পাণ্ডুলিপি অনুসারে শিল্পী, কসটিউম—এসব বিভিন্ন বিষয় নিয়েই চিন্তাভাবনা করি।’ আর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। সামনের দিকে এগোতে সাহায্য করে। তবে নিজের ভুলগুলো খুটিয়ে খুটিয়ে বের করি, তখন মনে হয়, ইশ্ এই শটটা এভাবে না নিয়ে ওইভাবে নিতাম। এভাবে না করে যদি আরেকটি ভালো করে করতাম। তখন কিছুটা অপূর্ণতা রয়ে যায়।’ উত্তরের জেলা শহর সিরাজগঞ্জে কেটেছে জামিমের শৈশব ও কৈশোর। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সৃজনশীল কাজের সাথে যুক্ত হওয়ার। বর্তমানে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই পেশায় আপনার আদর্শ কে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমার আদর্শ অনেকেই, আবার তেমন কেউ নেই। তবে আমি মনে করি এটা একান্তই নিজের ভিতরের জিনিস ভেতর থেকে যেটা আসবে, সেটাই। আদর্শ আর ভালো কিছু তো সবার কাছেই আদর্শ।’ আপনার কাজে অনুপ্রেরণা আসে কোথা থেকে? এমন প্রশ্নের জবাবে জামিম বলেন, ‘আসলে একান্তই কাছের মানুষগুলোর অনুপ্রেরণা আমাকে উত্সাহিত করে। আর এর মাঝে যার অনুপ্রেরণা আমাকে সবসময় উত্সাহিত করে সে হলো আহমদ জামান চৌধুরী। তার ছায়া আমাকে সব সময় সঠিক পথে চলার জন্য সাহায্য করছে।’ একজন নাট্যনির্মাতা হিসেবে আপনার নাটকে কী ধরনের মেসেজ থাকে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘একজন নির্মাতা হিসেবে আমি দর্শকের কাছে সবসময় পজেটিভ মেসেজ পৌঁছাতে চাই। কারণ পজেটিভ কিছুই জীবনে, সমাজে ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে।’ নাটক নিয়ে তার ইচ্ছের পূরণটা এখনও হয়নি বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘নাটকে অনেক কিছুই কম্প্রোমাইজ করতে হয়। দর্শকরা আমার বানানো নাটক পছন্দ করে বলেই কিছুটা তৃপ্তি পাই।’ তার স্বপ্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। এ প্রসঙ্গে জামিম বলেন, ‘আমার মনে হয় নির্মাণের সার্থকতা হলো বড় পর্দা। আর আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তাই আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাও ছবি নির্মাণ করা। আমি ভালো মানের কমার্শিয়াল মুভি বানাতে চাই। যা হবে দর্শকনন্দিত। সেভাবেই কাজ এগিয়ে চলছে।’