প্রত্যেকটি পরিবারে হয়তো তেমনটি দেখা যায় না। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারের প্রাত্যহিক ঘটনাগুলো ঠিক এ রকমই হয়ে থাকে। ননদ-ভাবির মধ্যকার সম্পর্ক সবসময় মধুর হয় না। ঈর্ষা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, অসুস্থ প্রতিযোগিতার মিশ্রণে অদ্ভুত টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় ননদ-ভাবির সম্পর্কে। ‘এক ননদ কী খুশিয়ো কী চাবি :মেরি ভাবি’ সিরিয়ালের ভাবি কৃতিকা ও ননদ শ্রদ্ধা তেমন নয়। তাদের দু’জনের মধ্যে চমত্কার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। শ্বশুরবাড়িতে শ্রদ্ধার মতো ননদ পেয়ে আত্মহারা ভাবি কৃতিকা। শেরগিল হাউজে শ্রদ্ধা একমাত্র কন্যা তাকে দেখে নরম মনের মেয়ে মনে হলেও ভেতরে ভেতরে বেশ শক্ত মনোবলের অধিকারী সে। স্বামী ববির সহায়তা ছাড়াই নিজের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে বদ্ধপরিকার। ভালোবাসায় তার গভীর আস্থা। শ্রদ্ধার তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই বিয়ে করেছে। বড় ভাই আনন্দের বড় কৃতিকা একজন আদর্শ গৃহবধূ। পুরো পরিবারের অনেক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে কৃতিকা। সব সময় হাসিমুখে থাকাটা তার স্বভাব। পরিবারের যেকোনো সমস্যায় ভেঙে না পড়ে হাসিমুখে তার মোকাবেলা করার মাধ্যমে সবার আস্থা অর্জন করে নিয়েছে এই তরুণী গৃহবধূ। তার ওপর কেউ সহজে রাগ করে থাকতে পারে না বেশিক্ষণ। তার সেন্স অব হিউমার প্রবল। যেকোনো ধরনের কঠিন পরিস্থিতি সহজভাবে সামাল দেওয়ার মতো অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তার। এসব কারণে কৃতিকাকে পরিবারের সবাই পছন্দ করে একটু বেশি ভালোবাসে। পরিবারের সবাই কৃতিকাকে বেশি ভালোবাসে বলে বাড়ির আরেক বউ জয়া ভেতরে ভেতরে ঈর্ষায় জ্বলেপুড়ে মরে। সে চায়, সবাই তার প্রশংসা করুক। তাকে কৃতিকার চেয়ে বেশি ভালোবাসুক। এ নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু কৃতিকার জায়গা দখল করার সামর্থ্য নেই তার। ননদ শ্রদ্ধা কৃতিকাকে ভাবি নয়, একজন বান্ধবীই মনে করে। তারা দু’জন পরস্পরের আনন্দ বেদনা দুঃখ সুখ সব কিছুই শেয়ার করে। কৃতিকা চায় ননদ শ্রদ্ধার জীবনের ভুলগুলো শুধরে দিতে। শ্রদ্ধার জীবনের সব দুঃখ বেদনা দূর করতে ভাবি কৃতিকার চেষ্টার শেষ নেই। বাড়িতে এমন একটি ভালো বউ থাকলে আর কিছু লাগে না—কৃতিকাকে দেখে সবাই এমনই মন্তব্য করে। পরিবারের কর্তা শ্বশুর প্রাক্তন আর্মি অফিসার জোরায়ার শেরগিল, শাশুড়ি অমৃত, স্বামী আনন্দ, দেবর আশীষ, ঈশান, জা জয়া—সবাই কৃতিকার জাদুকরী প্রভাবে মুগ্ধ। তার কোনো ত্রুটি চোখে পড়ে না কারও। এমনই গল্পে আবর্তিত হচ্ছে স্টার প্লাস চ্যানেলের নতুন ফ্যামিলি ড্রামা সিরিয়াল ‘এক ননদ কী খুশিয়ো কী চাবি :মেরি ভাবি’। এই সিরিয়ালটি প্রচারের খুব কম সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক দর্শকের হূদয় জয় করে নিয়েছে। পারিবারিক গল্পপ্রধান সিরিয়াল হওয়ায় অনেকেই বেশ মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করছেন ননদ-ভাবির মধুর উপাখ্যান।
