টরন্টোস্থ মেট্রো কনভেনশন সেন্টারের মূল মঞ্চে শিল্পীদের গান চলছে। আসল হলের পেছনের অংশের পর্দাও খুলে দিয়ে হল বর্ধিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠিত ৩৩তম উত্তর আমেরিকার বঙ্গ সম্মেলনের ৬-৭ হাজার দর্শক মন দিয়ে গান শুনছে। একটু পর মঞ্চে উঠবেন লোপামুদ্রা মিত্র। ইত্তেফাক বিনোদন প্রতিদিন-এর জন্য লোপামুদ্রা একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কার দেওয়ার কথা আগেই বলেছেন। সুদূর এই টরন্টোতে গান শেষে বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে আড্ডায় বসেছিলেন লোপামুদ্রা মিত্র। আড্ডার গল্পটি তুলে ধরেছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল
দেখা হলো গ্রিন রুমে। মঞ্চের পেছনে বসে অপেক্ষা করছেন। আমাকে দেখেই লোপা বললেন, ‘আরে আপনি টরন্টোতে কেন?’ বললাম, আমি তো কানাডায় থাকি।
‘আপনার সাথে শেষ দেখা কি কলকাতায়?’ আমি বললাম, না নিউ ইর্য়কে। লোপা মাথা দুলিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ। মনে পড়েছে। মুক্তধারার বইমেলায়।’ এরপর জানতে চাইলেন, কবিতার পাশাপাশি গান লিখছি কি না?
তার ‘বেণিমাধব’ আমার প্রিয় গান। এই জনপ্রিয় গানের জয়জয়কারে দুই জয় জড়িত। আমার কবিবন্ধু জয় গোস্বামী, আর লোপামুদ্রার স্বামী জয় সরকার। জয় গোস্বামীর কবিতায় সুর দিয়েছেন জয় সরকার। ফলে কবিতার চেয়ে গান হিসেবে ‘বেণিমাধব’ আরও বেশি মাত্রা পেয়েছে। কী বলেন লোপা? লোপা হাসতে হাসতে মাথা নাড়িয়ে কলকাতার স্টাইলে বললেন, ‘নিশ্চয়।’ এই কথার সুতো ধরেই আমাদের মিনি আড্ডা হলো।
কেমন লাগছে বঙ্গ সম্মেলন?
(লোপার হাসিমাখা জবাব) দারুণ ভালো লাগছে দাদা। এখানে শুধু নয়। যেকোনো মেলাই আমার বড্ড ভালো লাগে। একটা প্রাণের মিলন হয়। নানান জায়গার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে দেখা হয়। আড্ডায় অনেক কিছু জানা যায়। আমি খুবই এনজয় করি। এ ছাড়া আলাদা ঘোরার মজাটা তো আছেই।
দিদি, বঙ্গ সম্মেলন বাঙালিদের। কিন্তু এখানে বাংলাদেশ তো নেই। এ প্রসঙ্গে আপনার কী মত?
এটা সম্মেলনের লোকেরা বলতে পারবে। তবে শুনেছি, যারা আসার কথা ছিল। তারা ভিসার ঝামেলায় আসতে পারেননি। এলে খুবই ভালো লাগত। আমি কিছুদিন আগেই ঢাকায় গেয়ে এলাম। বরাবরই আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি। সবচেয়ে ভালোলাগে পুরো দেশটা বাংলায় মোড়া। আমরা বাংলায় কথা কই, গান করি, কিন্তু কলকাতার তো পুরোটা বাংলায় আর নেই। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ তো বিশাল ব্যাপার। আমি মনে করি আয়োজকদের এ বিষয়ে আরও একটু সচেতন থাকার
প্রয়োজন ছিল।
ঋতুপর্ণাকে পিয়ারসন এয়ারপোর্টে কেনো আটকানো হয়েছিল? এই ঘটনা আপনাকে কতটা বিব্রত করেছে?
অনেকটাই বিব্রত হয়েছি। আজ ঋতুকে আটকিয়েছে। কাল আমি হেনস্থা হব। এর আগে শাহরুখ খানসহ অনেকেই এমন বিষয়ে বিব্রত হয়েছেন। আমরা সার্কভুক্ত দেশগুলোরই এমন ঝক্কি বেশি পোহাতে হচ্ছে। এর তো কোনো মানে হয় না। এটা জাতিগতভাবেই আমাকে লজ্জা দেয়।
দুই বাংলার সাংস্কৃতিক বৈষম্য বা সম্প্রীতি কতটা লক্ষ করেন আপনি?
আমি তো চাই দুই বাংলার মাঝে কোনো বর্ডারই না থাকুক। কারণ বাংলার রাজত্ব আজীবন বাংলাদেশিরাই করবে। আমরা ছিন্নমূলের মতো কলকাতায় আছি। যেখানে হাজার ভাষার মানুষের বিচরণ। তবে এখন তো আমাদের দেশের চ্যানেলে প্রায় প্রতিদিনই বাংলাদেশের কোনো না কোনো শিল্পীকে দেখি। দু’বাংলার মধ্যে সীমান্ত থাকলেও দু’বাংলার সংস্কৃতির ভেতর কোনো সীমানা নেই। আমি বাংলার মেয়ে। বাংলায় গান গাই। বাঙালিদের জন্য গান গাই। বাংলা আমার অহংকার। দুই বাংলাই আমার কাছে এক।
এবারে একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে জানতে চাইছি, জয় সরকার আর আপনি দুজনই গানের সাথেই আছেন একাত্ম হয়ে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত ইগো বা দ্বন্দ্বের অবকাশ হয় কি না?
(হেসে) দেখুন ওসব আমাদের ভেতরে থাকলে আজ অবধি সংসার টিকত না। এক ছাদের নিচে আছি। এখন জয় বিভিন্ন চ্যানেলে ওর কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আমি বরাবরই চাইতাম ও ওর নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকুক। এই এগোনো পেছানোই তো জীবন। এর বাইরে তো আমরা কেউ নই। শুধু শুধু ইগোর অংক কষে লাভ কি বলুন। তবে কলকাতার মিডিয়াতেও অনেকে এ নিয়ে সরস গল্প লিখেছে। আমরা দুজনই অবশ্য এতে মজাই পাই!
