রুয়ান্ডার পর সিরিয়াতেই বেশি মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২০:৪৯
জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুয়ান্ডার গণহত্যার পর সিরিয়াতেই সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আর প্রতিমাসে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাক থেকে সিয়া ও সুন্নী মতাবলম্বীরা বাশার সরকারের পক্ষে এবং বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়ায় তা ভবিষ্যতে ভয়াবহ আকার ধারণ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতিসংঘের সহায়তা তহবিলের প্রধান ভেলারি আমোস বলেছেন, প্রায় ৬৮ লাখ সিরিয়ান নাগরিকের জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তার দরকার। শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনার এন্টিনিও গুতেরেস বলেন, সিরিয়ার যুদ্ধে যে হারে শরণার্থী সংখ্যা বাড়ছে তা ২০ বছর আগে রুয়ান্ডা গণহত্যার ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। এ বছরের প্রথম থেকে দেশ ছাড়তে শুরু করা সিরিয়ার নাগরিকদের দুই তৃতীয়াংশ জাতিসংঘের কাছে তাদের নাম নিবন্ধন করেছে। লেবানন, তুর্কি, জর্ডান, মিশর এবং আশেপাশের এলাকায় আশ্রয় নেয়া শরণার্থীর সংখ্যা ১৮ লাখ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এসিট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ইভান সিমোনোভিক বলেন, ২০১১ সালের মার্চে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সিরিয়ায় ৯২ হাজার ৯০১ জন নিহত হয় হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিশু রয়েছে। প্রতিমাসে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, এত বেশিসংখ্যক মানুষের মৃত্যুই বলে দেয় প্রতিনিয়তই সেখানে পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। ইরাকে নিযুক্ত জাতিসংঘের দূত মার্টিন কবলার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে ইরাকি সিয়া ও সুন্নী মতাবলম্বীরা নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে তাতে ভবিষ্যতে ইরাককে সিরিয়া যুদ্ধ থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ইরাকি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয়ভাবে সিরিয়ায় যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। সশস্ত্র গ্রুপের কেউ কেউ বাশারের পক্ষে যুদ্ধ করছে আবার কেউ বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছে। মাঝে মাঝে তারা পরস্পরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, সিরিয়ায় যুদ্ধরত সক্রিয় গ্রুপগুলো যে কোন সময় ইরাকের অভ্যন্তরেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হলে তা ইরাকে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।