চিকিত্সকও চান মাঠে নামুন মাশরাফি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৩
ইংল্যান্ডে মাশরাফি যেতে পারবেন কিনা, সেটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। আর এই সিদ্ধান্তটার জন্য জাতীয় দলের নির্বাচকরা চেয়ে আছেন চিকিত্সকের দিকে। আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলছেন, এখন যে অবস্থা তাতে ব্যাপারটা অনেকটাই মাশরাফির ওপর নির্ভর করে। দেবাশীষ চৌধুরী নিজেও মনে করেন, ইংল্যান্ডে যাওয়াই উচিত মাশরাফির, ‘নির্বাচকরা চাচ্ছেন ও ইংল্যান্ডে যাক। ওর যাওয়া উচিত। একটা পরীক্ষার মধ্যে তো যাওয়া উচিত। নির্বাচকদের যুক্তিটাও তো বুঝতে হবে। ওকে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই তারা তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিয়ে ফেলতে পারবেন না। সবকিছুর পরও এই মুহূর্তে তো ও পরীক্ষিত না।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মাশরাফি সেই যাওয়ার মতো অবস্থায় আছেন কিনা। ডাক্তার দেবাশীষও খুব জোর দিয়ে বলতে পারলেন না কিছু। তবে এটুকু বলছেন যে, এখানে মাশরাফির মানসিক অবস্থার একটা বড় ভূমিকা আছে, ‘এটা আসলে বলা খুব ডিফিকাল্ট। এটা আসলে যার আঘাত, তারও একটা ব্যাপার আছে। ও অনেকদিন হয় খেলেনি, ফলে ওর নিজেরও একটা চিন্তার ব্যাপার আছে। ওর আরও প্রায় তিন-চার কেজি ওজন কমাতে হবে। এর জন্য আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে, ওজন কমাতে। আমরা খুব চেষ্টা করবো।’ তবে এই মুহূর্তে বোলিং ল্যান্ডিংয়ের সময় গোড়ালিতে সামান্য ব্যথ্যা ছাড়া মাশরাফির আর কোনো সমস্যা আছে বলে বাহ্যিকভাবে অন্তত মনে করছেন না বিসিবির এই চিকিত্সক। তারপরও কেন মাশরাফি মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত নন? কেন জিম্বাবুয়ে সফরের সময় সুস্থতার কাছাকাছি যাওয়ার পরও এতোদিন পার করেও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন না মাশরাফি? এসব প্রশ্ন পরোক্ষভাবে হলেও চিত্সিক দলের ভূমিকাকে একটু প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দেবাশীষ অবশ্য নিজেদের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করার কোনো সুযোগই দেখছেন না। তিনি বলছেন, তাদের করণীয় সবকিছুই করছেন তারা, ‘ওর ইনজুরির ধরনটা বুঝতে হবে। এই ধরনের ইনজুরির চিকিত্সা কিন্তু অপারেশন না। এর একমাত্র চিকিত্সা হল বিশ্রাম নেয়া। মোটামুটি ছয় থেকে আট সপ্তাহ বিশ্রামে এই ইনজুরি সেরে যাওয়ার কথা। জিম্বাবুয়ে সফরের আগে ও প্রায় সেই অবস্থায় ছিল। কিন্তু দেখা গেল, এই সময়ে পুরোপুরি সারল না। তার মানে ও অল্প মাত্রায় ইনজুরিটা এখনও ক্যারি করছে। সে ক্ষেত্রেও বিশ্রামের বাইরে কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। আমরা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়েছি। বিভিন্ন সার্জনকে ওর কাগজপত্র পাঠিয়ে বুঝতে চেয়েছি। আমাদের যা যা করার, করেছি। আসলে কোনো ম্যাজিক তো নেই আমাদের হাতে। তাই অপেক্ষাই করতে হচ্ছে।’