দেশের বৃহত্তম দ্বীপজেলা ভোলা মত্স্যসম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও এখানে বর্তমানে মাছের আকাল। ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও বাজারে ইলিশের দেখা মিলছে না। নামমাত্র কিছু ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া গেলেও দাম চড়া। দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত প্রায়। থাই পাঙ্গাশ আর তেলাপিয়ার আধিক্য লক্ষ্য করা গেলেও চাহিদা একেবারে কম। মৌসুমের শুরুতে ইলিশ শিকারী জেলেদের টাকা লগ্নিকারী ব্যবসায়ীরা তাদের আড়তে ধৃত মাছ বিক্রির চুক্তির কারণে মাছ তাদের কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। ঐ সমস্ত আড়তদার ছোট-বড় সকল প্রকার মাছ পাঠিয়ে দেয় ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে। ফলে স্থানীয় বাজারে ইলিশ সংকট । অথচ ভোলায় মাছের পরিমাণ ৯১ হাজার ৮৩৫ টন। জাতীয় উত্পাদনের শতকরা ২৫ ভাগ। এর সবটাই জাতীয় উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ভোলা জেলায় মাছের মোট উত্পাদন ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫৫ টন । এর মধ্যে ইলিশের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৮৮২ টন। ভোলার চাহিদা ৪০ হাজার ৩২০ টন। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক উপরোক্ত তথ্য জানিয়ে বলেন, দেশে প্রতি বছর মাছের উত্পাদন ৩২ লাখ টন। এর মধ্যে ইলিশের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৬ হাজার টন। তিনি আরো জানান যে, জেলায় প্রকৃত জেলের সংখ্যা ৮৮ হাজার ৪শ। ভুয়া জেলেদের উত্পাত থেকে প্রকৃত জেলেদের রক্ষার্থে এদের সকলকে দেওয়া হচ্ছে পরিচয়পত্র এবং করা হচ্ছে নিবন্ধন । নিবন্ধনের কাজ শেষ করে বর্তমানে পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলা হচ্ছে। পরিচয়পত্রবিহীন কোন জেলে সরকারি সাহায্য- সহযোগিতা পাবে না।
