সাত রোজা চলে গেলেও জমে ওঠেনি ঈদ বাজার। বাহারি পোশাকে সাজানো শপিং মলগুলো গতকালও ছিল ক্রেতা শূন্য। এ বছর হরতালের বাড়াবাড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন রোজার ঈদে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু হরতালে হরতালে তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে বসেছে। গত কয়েকদিনের হরতালের পর তারা এখন রীতিমতো বিপর্যস্ত বোধ করছেন।
পাইকারি বাজারে এইতো সময় :রোজার শুরু থেকে ইসলামপুরের পাইকারি বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা বেচাকেনা হয়। স্থানীয় খুচরা বাজারের বিক্রিও বেশ ভাল। হরতালের কারণে গত তিন দিন ধরে এই বিক্রি বন্ধ রয়েছে বলে জানালেন ইসলামপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার ঢালি। তিনি বলেন, আমাদের পাইকারি ব্যবসায়ীদের বেচাকেনার মোক্ষম সময় হলো ১৫ রোজা পর্যন্ত। এর মধ্যে তিন দিন কোন ব্যবসা নাই। থান কাপড় বিক্রির ছোট ছোট দুই একটি দোকান খুললেও ক্রেতা খুব একটা পাওয়া যায় না। অথচ দোকানগুলোতে বছরের মোট বিক্রির একটি বড় অংশ এই সময় হয়ে থাকে। তারা আতঙ্কে আছেন সামনের দিনগুলোতে আরও হরতাল হলে কি হবে। কারণ থান কাপড় বিক্রির সঙ্গে দর্জিদের একটা সম্পর্ক আছে সেটা সবারই জানা। বেশি বিলম্ব হলে দর্জিরা কাপড় নেবে না। আর থান কাপড়ের ক্রেতারা চলে যাবে রেডিমেড পোশাকের দিকে। তিনি সকল ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে এই হরতাল প্রত্যাহার এবং রোজার মাসে আর হরতাল না দেয়ার আহবান জানান।
বুটিক হাউজ হারাচ্ছে এই সময়ের ক্রেতা : একই ধরনের দাবি করলেন স্টুডিও এমদাদ এর এমদাদ হক। তিনি বলেন, পাঁচ থেকে দশ রোজা পর্যন্ত বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য মানুষ পোশাক কেনেন। হরতালের কারণে আমরা সেই ক্রেতাদের পাচ্ছি না। তিনি উল্লেখ করেন, এবার বৈশাখে হরতালের জন্য আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। রোজার ঈদ আমাদের ব্যবসার একটি প্রধান সময়। আমরা অনেকেই ব্যাংক ঋণ নিয়ে এর জন্য প্রস্তুতি নেই। এমনভাবে হরতাল হতে থাকলে মুনাফাতো দূরের কথা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কর্মচারীদের বেতনসহ নানারকমের বিল প্ররিশোধ করাটাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এসব বিবেচনা করে এই রমজানে আর হরতাল না দেয়ার জন্য তিনি আবেদন জানান।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় ক্ষতি : আমরা ধারণাও করতে পারিনি রমজানের মধ্যে এমন লাগাতার হরতাল হবে— বললেন, নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর । তিনি বলেন, নিউ মার্কেটে গজ কাপড়, থ্রিপিস বিক্রি হয় ভাল। কিন্তু হরতালের কারণে ভয়ে ক্রেতারা আসেন না। হরতালের আগের দিনও বোমা ফাটে, ভাংচুর হয়। তাই সেদিনও আমরা ক্রেতা হারাই। অর্থাত্ একদিন হরতাল হলে আমাদের দুই দিনের বেচাকেনা শেষ। তিনি আরও বলেন, গত তিনদিনের হরতালে থান কাপড়ের বিক্রিতে ধস নেমেছে। আরও হরতাল হলে আমাদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তিনি ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী, আমাদের ব্যবসা করতে দিন। প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামাবেন না।
একই অবস্থা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদেরও :সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় সারা বছর তেমন ক্রেতা না থাকলেও রোজার ঈদে কিছু ক্রেতা পান স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। লাগাতার হরতালে তাদের সেই ক্রেতা হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিনেশ চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, এই ক্ষতি শুধু দোকান মালিকদের নয়, যারা অলঙ্কার বানান তাদেরও। অলঙ্কার বিক্রি না করলে যেমন আমাদের চলবে না, অলঙ্কার না বানালে তাদেরও চলবে না।
ফুটপাতে বেচাকেনা :গুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানি কবীর উদ্দিন জানালেন, সারাবছর যা ব্যবসা হয় তা দিয়ে কোনমতে দিন চলে। রোজার ঈদের লাভ দিয়েই আমরা ঈদ উত্সব পালন করি। বাড়তি আয় হলে ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এবারের টানা হরতালের কারণে সবই শেষ হতে চলেছে।
