রাজধানীতে পুলিশের ওপর শিবির কর্মীদের হামলা, আহত ৫

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৯
জামায়াতের ডাকে টানা তৃতীয় দিনের হরতালে গতকাল বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েক এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। নগরীর কয়েক এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের ওপর শিবিরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। হরতালের সমর্থনে শিবিরকর্মীরা সকালে পুরান ঢাকার বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ফকিরের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ছোঁড়ে। এছাড়া শাহজাহানপুরে শিবিরকর্মীরা পুলিশের টহল গাড়িতে হামলা চালিয়ে ৫ পুলিশ সদস্যকে আহত করে। আহত পুলিশ সদস্যদের তিনজনকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দু’জনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। হরতাল চলাকালে রাজধানীতে অধিকাংশ দোকানপাট খোলা ছিল। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতের হাজিরা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। ব্যাংকে লেনদেন হয়। গত দুই দিনের হরতালের তুলনায় গতকাল সকাল থেকে রাস্তায় বেশিসংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করে। প্রাইভেট গাড়িও চলেছে। ঢাকার অনেক রোডে স্বাভাবিক দিনের মতোই যানজট তৈরি হতে দেখা যায়। তবে দূরপাল্লার রুটে কোন বাস ছেড়ে যায়নি। সকাল ৮টার দিকে মিরপুরের পল্লবীতে কালশী রোডে কবরস্থানের সামনে কয়েকটি বাস এবং ইটিসি পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। কল্যাণপুর এলাকায় সকাল পৌনে ৭টায় শহীদ মিনার রোডের মাথায় পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় এক পিকেটারকে আটক করে পুলিশ। এঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল সমর্থকরা শহীদ মিনার রোডের মাথা থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পিকেটাররা পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। তবে একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শাহজাহানপুর শিবিরের হামলার ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা সোয়া ১১ টার দিকে শাহজাহানপুরের বটতলা মোড়ের দিকে দায়িত্বরত পুলিশের একটি টহল দল যায়। এসময় হঠাত্ ১৫ থেকে ২০ জনের শিবিরের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে দায়িত্বরত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর সাদেক মিয়াসহ পাঁচ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে ?যায়। এ সময় শিবির কর্মীরা কয়েকটি গাড়ীও ভাংচুর করে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। বংশাল থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পুরান আল রাজ্জাক হোটেলের সামনে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়িকে লক্ষ্য করে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে পিকেটাররা। তবে নিক্ষেপ করা চারটি ককটেলের মধ্যে দুটি অবিস্ফোরিত থাকে। পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে অকার্যকর করে দেয়। বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গলি থেকে কয়েকজন পিকেটার বের হয়ে পরপর কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টার সময় যাত্রাবাড়ী থানাধীন দয়াগঞ্জ এলাকায় রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা হরতালের সমর্থনে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিকেটাররা পালিয়ে যায়। যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে শিবির কর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর করেছে । এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিবিরের একটি ব্যানার উদ্ধার করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাড়ে ৩টার দিকে ২০/২৫ জনের জামায়াত শিবির কর্মীর একটি দল ধলপুরের ইসলামী জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে গাড়িতে ভাংচুর চালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সে সময়ের মধ্যে শিবির কর্মীরা যাত্রীবাহী তুরাগ পরিবহনে ভাংচুর করে। এ সময় তারা সেখানে দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ককটেলের শব্দে ওই এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যায়। রাজধানীর রায়েরবাগে সকালে ৪ শিবির কর্মী বাস ভাংচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের উদ্দেশ্যে রাস্তায় সংঘবদ্ধ হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে সাদা পোশাক ও পোশাকধারী পুলিশের দল ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের আটক করে। এবং তাদের কাছ থেকে ককটেল, কয়েক বোতল পেট্রোল ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বাংলামোটর পুলিশ বক্সে হামলা এদিকে রাজধানীর বাংলামোটর পুলিশ বক্সে বুধবার রাতে হরতালে ককটেল হামলা চালিয়েছে। তারা পুলিশ বক্স লক্ষ্য করে পরপর ৩ টি ককটেল ছুঁড়ে মারে। রমনা থানা পুলিশ জানায়, রাত ৮ টার দিকে ৪/৫ জন অজ্ঞাত যুবক হঠাত্ ককটেল ছুঁড়ে মারে। একটি ককটেল পুলিশ বক্সের কাঁচে লেগে প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়। অন্য দুইটি ককটেল পুলিশ বক্সের পাশে রাস্তায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়। হরতাল সমর্থকরা এসময় পুলিশ বক্স লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ডিউটিরত পুলিশ ধাওয়া দিলে হরতাল সমর্থকরা ইস্কাটন রোডের দিকে পালিয়ে যায়। হামলায় পুলিশ বক্সের একটি কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গুলিতে ফল ব্যবসায়ী আহত ট্রাক থেকে আপেলের কার্টন নামাতে পুলিশকে ১শ’ টাকা দিতে অস্বীকার করলে বুধবার সকালে শাহজাহানপুর থানাধীন আমতলা এলাকার খিলগাঁও বাজারে পুলিশ ফল ব্যবসায়ী মোকসেদ আলী সরদারকে (৫০) গুলি করেছে। আহত অবস্থায় ঐ ব্যবসায়ীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের হামলার সময় ব্যবসায়ীর পুত্র রাকিব ওরফে জাহিদ প্রতিবাদ করলে তাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। শাহজাহানপুর থানার ওসি আনিসুল হক দাবি করেছেন, ঘটনার সময় ঐ লোকটি হরতালে পিকেটিং করছিলেন। এসময় পুলিশ গুলি ছুঁড়লে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও পুলিশ সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় খিলগাঁও বাজারে হরতাল সমর্থকদের কোন পিকেটিংয়ের ঘটনা ঘটেনি।