আর কিছুদিন পরই ঈদুল ফিতর। ঈদ সামনে রেখে সব শিল্প উদ্যোক্তাদেরকে দিতে হবে বোনাস। এ বছর ঈদ যে সময়ে হবে তাতে বেতন ও বোনাস একসঙ্গে দিতে হবে। বিধায় শিল্প উদ্যোক্তাদের উপর চাপ অনেক বেশি। এ অবস্থায় চলতি সপ্তাহে টানা চারদিন হরতালে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
এমনিতেই ঈদের আগে বোনাস দিতে গিয়ে প্রতি বছরই শিল্প উদ্যোক্তারা হিমশিম খেয়ে যান। ফলে ঈদের আগে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংক ঋণ নিয়ে বোনাসের দাবি মেটাতে হয় উদ্যোক্তাদের। এ বছর ঈদের আগে বেতন ও বোনাস একসাথে দিতে গিয়ে বেশ চাপে পড়ে যাবেন শিল্প উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে টানা হরতাল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ায় অনেকের পক্ষেই ঈদের আগে বেতন ও বোনাস একসঙ্গে দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পোশাক শিল্পে নানা দুর্ঘটনার কারণে এমনিতেই চাপের মধ্য দিয়ে পাড় করতে হচ্ছে। তার মধ্যে উচ্চ সুদ হার ও গ্যাস, বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কটও রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালের কারণে কারখানার উত্পাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিধায় ঈদে একসাথে বোনাস ও বেতন দিতে উদ্যোক্তাদেরকে চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়ে যেতে হবে। অনেকেই ঠিকভাবে বেতন ও বোনাস দিতে পারবেন না বলেও আশঙ্কা করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাক’কে বলেন, হরতাল করার রাজনৈতিক অধিকার সব দলের রয়েছে। তবে সম্প্রতি রানা প্লাজা ধস এবং তাজরীনের দুর্ঘটনার পরও এভাবে হরতাল হওয়ায় বিশ্বে নেতিবাচক ম্যাসেজ যাচ্ছে। তাছাড়া বায়াররা (ক্রেতারা) দেশে এসে যখন এ ধরনের পরিস্থিতি দেখছে তখন তাদের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ঈদের আগে এ ধরনের কর্মসূচি অর্থনীতির জন্য আরও বেশি নেতিবাচক। তাই দেশের অর্থনীতির স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক সমঝোতা আনা জরুরি।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সব সময়ই দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে সচল হয়। এ সময়ে সর্বত্রই দেখা যায় কাজের চাপ। তাই এ মুহূর্তে হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহিম বলেন, এমনিতেই ঈদের সময় কাজের চাপ বেশি থাকে। তাছাড়া পোশাক শিল্প কিছুটা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় হরতাল হলে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই এটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, আগে সাধারণত কখনো রমজানে হরতাল হয়নি। কিন্তু এখন কোনো কিছুই দেখা হচ্ছে না। যেহেতু সামনে ঈদ রয়েছে তাই এ মুহূর্তে হরতাল হলে শিল্প উদ্যোক্তারা সামনে চাপের মুখে পড়ে যাবে।
