চিংড়ির মান নিয়ে ব্যবসায়ী ও মত্স্য বিভাগের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে খুলনা অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত হিমায়িত চিংড়ি রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। মত্স্য অধিদপ্তরের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মত্স্য ব্যবসায়ীরা। তবে মত্স্য বিভাগ বলছে, ল্যাবরেটরিতে চিংড়ি পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে লট বাতিল হয়ে যায়। এখানে অযাচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ এলাকার চিংড়িতে গত এক বছর নাইট্রোফোরান পাওয়া যায়নি। তারপরও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে চিংড়িতে নানা ত্রুটি ধরে লট বাতিল করে দিচ্ছে। কোন কোন লট একাধিকবার বাতিল করা হচ্ছে। ল্যাবরেটরি থেকে স্টাফ অফিসারদের বের করে দিয়ে মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বর্তমান উপ-পরিচালক নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে চিংড়ি পরীক্ষা করিয়ে লট বাতিল করান বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মত্স্য ব্যবসায়ী বলেন, গত তিন মাস ধরে ওই কর্মকর্তা এ ধরনের কাজ করছেন। মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বাড়াবাড়ির কারণে রফতানিযোগ্য চিংড়ি এক থেকে দুমাস দেরিতে রফতানি করতে হচ্ছে। ফলে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী চিংড়ি রফতানি করতে না পেরে কোম্পানিগুলো লোকসানের কবলে পড়ছে। যথাসময়ে চিংড়ি ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে না পারায় চুক্তিও বাতিল করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের ৫৬টি চিংড়ি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৩টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ৩৩টি কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে ১৫টি প্রতিষ্ঠান ভালভাবে চললেও অন্যগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
মত্স্য অধিদপ্তরের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, চিংড়িতে নাইট্রোফোরানের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। গত এক বছরে বিদেশ থেকে কোন অভিযোগ আসেনি বলেও জানান তিনি। নাইট্রোফোরান না পাওয়ার পেছনে তাদের অনেক অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিংড়ি চাষি, মাছের খাদ্য উত্পাদনকারী ও এর সাথে জড়িতদের জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।
মান নিয়ন্ত্রণের নামে লট বাতিল করে কোম্পানিগুলোকে ক্ষতি করার বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে কোন ক্ষতিকর দিক ধরা পড়লে তাতে তাদের কিছুই করার নেই। অবশ্য বর্তমানে খুলনায় মাইক্রোবায়োলজিক্যাল টেস্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে লটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হলে একটু দেরি হতে পারে।
তবে বেশ কয়েকজন মাছের বড় বড় ব্যবসায়ী জানান, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থেকে চিংড়ির সার্টিফিকেট পেতে এক থেকে দুমাস পর্যন্ত সময় লাগে। অথচ রফতানির অর্ডার পাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই চিংড়ি বিদেশে পাঠাতে হয়। সার্টিফিকেট সম্পৃক্ত জটিলতা সৃষ্টির জন্য মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ দায়ী বলে মাছ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তাদের মতে মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল না থাকায় তাদের দায়ভার এড়ানোর জন্য উল্টো কোম্পানিগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি হিমায়িত চিংড়ি রফতানি করা হয়। এছাড়া বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, রাশিয়া, সৌদি আরব, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে চিংড়ি রফতানি হচ্ছে।
