জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পার্বত্য তিন জেলায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় প্রায় প্রতিদিনই সংঘাত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এবং প্রতিপক্ষ ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও সন্তু লারমা বিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি চাইছে তিন জেলায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ গ্রুপের সশস্ত্র তত্পরতা, দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ, চোরাগোপ্তা হামলা, খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ফের অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের আইনের সংশোধনীকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে যখন ক্ষোভ দানা বাঁধছে ঠিক তখন চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের সশস্ত্র তত্পরতা, গ্রামাঞ্চলে পক্ষ-বিপক্ষের নেতাকর্মীর উপর সশস্ত্র হামলা, পাল্টাপাল্টি খুনের ঘটনা ও অপহরণ ইত্যাদি সহিংস ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে দিন যাপন করছে। এলাকা দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট সংঘাতে গত ২০ দিনে জেএসএস (সন্তু লারমা), জেএসএস (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ’র ১৫ জন নেতাকর্মী হতাহত হয়েছে। এই সময়ে তারা অন্তত ২০ বার বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির বিভিন্নস্থানে ৮/১০ দফা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে রাঙ্গামাটির কাউখালী ও খাগড়াছড়ির বর্মাছড়ি এলাকায় প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত একশ’ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। শান্তিচুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ দুই সংগঠন জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ এর মধ্যে প্রায়ই সংঘটিত সংঘাতে সাধারণ জনগণ রয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে। গত এক বছরে জেএসএস, ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থীদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বহুবার। গত এক বছরে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন নেতাকর্মী। এসময়ে পরস্পরের মধ্যে সশস্ত্র হামলা ও বন্দ্ধুকযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে ২৮ বার। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন ও অপহরণ হয়েছে ৯০ জন। সর্বশেষ বড় ধরনের অপহরণ ঘটনা ঘটে গত ৮ জুলাই। ওই দিন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি এলাকা থেকে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবিতে টেলিটকের নিযুক্ত একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাঁচজন প্রকৌশলী ও টেকনেশিয়ানকে অপহরণ করা হয়। তাদের উদ্ধারে অব্যাহত রয়েছে সেনা অভিযান। সহিংস ঘটনার বেশিরভাগই সংঘটিত হয়েছে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে ভয়ংকর এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়ি, বাবুছড়া, মেরুং, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি ও রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, কাউখালী, লংগদু, বরকল ও নানিয়ারচর উপজেলা।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উপর আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের উপজাতীয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নির্যাতন ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব অস্ত্রধারী খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৯ মাইল, ৫ মাইল, ৪ মাইল, ৩ মাইল, খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের গিরিফুল, শিবমন্দির, দেওয়ান পাড়া, কুড়াদিয়া, তুলাতুলি, লতিবান ব্রিজ, পানছড়ির কলেজ গেইট, খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের মাহালছড়া, চম্পাঘাট, গুগড়াছড়ি, বিচিতলা, মানিকছড়ি, লেমুছড়ি ও ২৪ মাইল ইত্যাদি এলাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়ির চালক ও হেল্পারকে হুমকি দেয়াসহ গাড়িতে থাকা মালের উপর থেকে নির্ধারিত চাঁদা আদায় করছে।
