জাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:১৬
জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউশনের প্রধান সমন্বয়কারী ও ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এমকে রহমান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, রায়ে দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, যারা মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে তাদের বিচার যে বাংলাদেশের মাটিতে করা সম্ভব হয়েছে এ রায়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। জাতি আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। এমকে রহমান বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। আল বদর বাহিনীর কমান্ডার ও ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা হিসেবে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যায় মুজাহিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও নেতৃস্থানীয় অংশগ্রহণ ছিল। ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে জাতি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচার পেল। তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, শহীদ রুমিসহ মুক্তিযুদ্ধে অনেক মানুষকে হারানোর যে ব্যথায় আমরা ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছিলাম তার বিচার হল। ৪২ বছর পূর্বে যারা স্বামী, পুত্র ও স্বজন হারিয়েছেন আজ তারা মনে করবেন ন্যায় বিচার পেয়েছি। প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ বলেন, এ রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার। এ মামলাটিতে আমরা প্রথম বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ এনেছিলাম। বুদ্ধিজীবী হত্যা ও পরিকল্পনার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আমি মনে করি অন্যান্য মামলায় বুদ্ধিজীবী হত্যার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে এ রায় সেসব অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে জয়েন্ট ক্রিমিনাল অ্যান্টারপ্রাইজের (দলগত অপরাধের দায়ভার) বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাত্ একজন ব্যক্তি যদি কোন গ্রুপের অংশ হয়ে একই পরিকল্পনায় অপরাধ করে সেই অপরাধের জন্য ওই গ্রুপের সকলেই দায়ী হবেন। ’৭৩ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৪(১) ধারায় এ অপরাধের কথাই বলা হয়েছে। আজকের রায়ে সেই অপরাধের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হল। অন্যরা অপরাধ করেছে আমি সাথে ছিলাম বলে পার পেয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।