হারানো স্মৃতির অ্যালবাম

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৩, ১৮:২৬
এ যেন একটু পেছনে ফিরে দেখা। পরিব্রাজকের এক দশকের ভ্রমণ নেহাত কমও নয়। স্মৃতির অ্যালবাম হাতড়ে বেড়ানো। তেমনি স্মৃতির অ্যালবাম মেলে ধরল গ্যালারি ‘কায়া’। মহাযজ্ঞই বলা চলে। দশ বছর পূর্তি উদ্যাপন করল গ্যালারি কায়া, সাথে বিভিন্ন কর্মশালার ছবি নিয়ে প্রদর্শনী। কর্মশালাগুলো হয়েছে—যমুনা রিসোর্ট, টাঙ্গাইল, ২০০৬; থিম্ফু, ভুটান, ২০১১; বান্দরবান, ২০১২; গ্যালারি কায়া, ২০১৩। কর্মশালাগুলোতে সংখ্যাধিক শিল্পীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শিল্পীরা হলেন—আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, কাইয়ুম চৌধুরী, নিতুন কুন্ডু, সমরজিত্ রায় চৌধুরী, হাশেম খান, রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, হামিদুজ্জামান খান, কালিদাস কর্মকার, মনসুরুল করিম, চন্দ্রশেখর দে, তরুণ ঘোষ, শম্ভু আচার্য, কাজী রাকিব, রণজিত্ দাশ, গোলাম ফারুক বেবুল, সামুদা কাজী, শিশির ভট্টাচার্য, ফারাহ জেবা, সমীরণ চৌধুরী, রফি হক, আনিসুজ্জামান, নগরবাসী বর্মণ, তরিকত ইসলাম, শেখ মো. রোকনুজ্জামান, আশরাফুল হাসান, কামালুদ্দিন, বিশ্বজিত্ গোস্বামী, সোহাগ পারভেজ প্রমুখ। শিল্পীদের কাজের মধ্যেও উদ্ভাসিত হয়েছে স্বকীয় ধারা। চলমান মানুষ, লোকজ সংস্কৃতি, নিজস্ব আঙ্গিক, পাহাড়-নদী সবই প্রদর্শনীতে বিদ্যামান। মাধ্যমগত বিচিত্রতাও চোখে পড়ার মতো। ইন্ডেজেনাস পিগমেন্ট, অ্যাক্রিলিক, ওয়েল, সেরিগ্রাফ ইত্যাদি মাধ্যম পরিলক্ষিত হয়। প্রথমেই আলোচনা করতে হয় বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পী আমিনুল ইসলামের কথা। তিনি এঁকেছেন আনটাইটেলড শিরোনামে ইন্ডেজেনাস পিগমেন্টে আদিবাসী ইমেজের ছবি। তিনটি স্ট্যান্ডিং ও একটি সিটেড ফিগার তার পেছনে ফ্লোরাল মোটিফ এঁকেছেন। মুর্তজা বশীর ফেস-১, ইন্ডেজেনাস পিগমেন্ট অব ক্যানভাসে নারীর প্রোফাইল এঁকেছেন। মধ্যবয়সী নারীর অবয়বে ফ্যাশন-সচেতনতার ভাব স্পষ্ট। পরিপাটি চুলে ফুলটি গুঁজে দিতে ভোলেননি শিল্পী। ফিগারের ভঙ্গিতে কামনার ভাব দেখা যায়। কাইয়ুম চৌধুরী নিজস্ব শৈলীতে পাখি, নদী, নৌকা এঁকেছেন। নিতুন কুন্ডু ইন্ডেজেনাস পিগমেন্টে শিরোনামহীন-২-এ বিমূর্ততার ডিজাইন ফুটিয়ে তুলেছেন। সমরজিত্ রায় চৌধুরী তাঁর নিজস্ব শৈলীতে পাহাড়, নদী, পাখি এঁকেছেন। শিল্পী হাশেম খান ফ্রিডম শিরোনামে কাক এঁকেছেন। শিল্পী রফিকুন নবীও সেরিগ্রাফিতে কাঁক এঁকেছেন নিজস্ব ভঙ্গিতে। মনিরুল ইসলাম সেরিগ্রাফিতে রেখার আঁকিবুকি করেছেন। শিল্পী হামিদুজ্জামান ‘অন দ্য হিল’ শিরোনামে অ্যাক্রেলিক অন ক্যানভাসে এঁকেছেন কুয়াশাঘেরা পাহাড়ের পাদদেশের ছবি। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে যাচ্ছে পাহাড়ি বধু, পিঠে তার শিশুটি বাঁধা। দূরের পাহাড়ে ঘরবাড়ির হাতছানি মন উদাস করে দেয়। সুন্দর পরিবেশ ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। কালিদাস কর্মকার পলিমাটির মানুষের মুখ এঁকেছেন। মনসুরুল করিম নিজস্ব ভাষায় অ্যাক্রেলিকে মানুষের অবয়ব এঁকেছেন। তরুণ ঘোষের মিথ এন্ড মেমোরী-৩-এ রোমান্টিসিজমের ভাব পরিলক্ষিত হয়। শম্ভু আচার্য সীতা অপহরণের দৃশ্য এঁকেছেন লোক আঙ্গিকে। রণজিত্ দাশ ধ্যানমগ্ন মুখচ্ছবি এঁকেছেন। গোলাম ফারুক বেবুল কর্ম নিয়ে নিরীক্ষা করেছেন। মাসুদা কাজী ইন্ডেজেনাস পিগমেন্টে পেরট এঁকেছেন। শিশির ভট্টাচার্য আনটাইটেল্ড-৩ শিরোনামে নিজস্ব শৈলীতে মানুষের অবয়ব, পশু-পাখি ইত্যাদি এঁকেছেন। নতুন শিল্পীদের মধ্যে সবসময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগ্রহ দেখা যায়। সেই ধারা বজায় রেখেছেন সমীরণ চৌধুরী, রফি হক, আনিসুজ্জামান, নগরবাসী বর্মণ, তরিকত ইসলাম, শেখ মো. রোকনুজ্জামান আশরাফুল হাসান, বিশ্বজিত্ গোস্বামী প্রমুখ শিল্পী। কর্মশালার ছবিগুলোতে শিল্পীদের মনোযোগের অভাব দৃষ্টিগোচর হয়। কর্মশালায় ছবি আঁকার চাইতে আনন্দঘন পরিবেশ উপভোগেই শিল্পীদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় বেশি। ফলে ছবি হয় তথৈবচ। তারপরও এই ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানাতে হয় বই কি। প্রদর্শনী চলবে ২০ জুলাই ২০১৩ পর্যন্ত।