পবিত্র রজমান আল্লাহর রহমত ও বরকতের মাস। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহমতের দরজা খুলে দেন। ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে রোজা একটি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর।” যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। রমজান মাসে আল্লাহর রহমতের সাথে সাথে বেহেশতের সবগুলো দরজা খুলে দেয়া হয়, আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। আর মানুষের চির শত্রু শয়তানকে শৃংখলিত করা হয় (মুসলিম)। ফলে মানুষ সব সময় ভাল কাজ করার সুযোগ পায়। রমজানের অপরিমীম সওয়াব আছে। হুজুর (স.) বলেন, “যখন রমজান শরীফের প্রথম রাত্রি উপস্থিত হয়, তখন আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। রমজান মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঐ সমস্ত দরজা আর বন্ধ হয় না। আর যখন রমজান পর্যন্ত সমস্ত সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়া হয় এবং প্রত্যেক দিন ফজরের নামাজ হতে মাগরিব পর্যন্ত তার পক্ষে দোয়া মাগফেরাত করার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা মোতায়েন করেন। এই রহমতের মাসে আল্লাহর কাছে যে যত চাবে আল্লাহ তত দেবেন। এই মাসের সব কিছুতেই আল্লাহ বরকত রেখেছেন। অন্য মাসগুলোর তুলনায় রমজানের সওয়াব গুরুত্ব সর্বদিক দিয়ে বেশি। অন্য মাসের তুলনা রমজান মাসে বান্দা আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে বেশী সামিল থাকে। অন্য সময়ের থেকে রোজার সময় মসজিদেও ভিড় বেশী দেখা যায়, কারণ রমজানের একটি নফল ইবাদত অন্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমতুল্য, আর একটি ফরজ ইবাদত সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সমতূল্য হবে। এই মাসের সকল আমল আল্লাহর খুশির জন্য বা সওয়াবের আশায় করলে তার নেকি সত্তরগুন বাড়িয়ে দেয়া হবে। এর মধ্যে কোন ব্যক্তি যদি সওয়াবের আশায় রোজাদারকে ইফতার করায় তাহলে এর বিনিময়ে তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এবং সে জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তাছাড়া সে উক্ত রোজাদার ব্যক্তির মত সওয়াব পাবে। এতে রোজাদারের সওয়াব কমতি হবে না। এক সাহাবী বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স.) আমার এমন তাওফীক নাই যা দ্বারা আমরা রোজাদারকে ইফতার করাতে পারি। হুজুর (স.) বলেন, যদি তোমরা একটি খোরমা বা এক ঢোক দুধ বা মিঠা পানি দ্বারা ইফতার করাও তবে তোমরাও ঐ একই সওয়াব পাবে, তার কমতি হবে না। এই রমজানের প্রথম দশদিন রহমতের , দ্বিতীয় দশদিন ক্ষমার, তৃতীয় দশদিন নাজাতের জন্য নির্ধারিত। আর এই রমজানে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত অতি উত্তম। এই মাসেই কুরাআন অবতীর্ণ হয়েছে (বাকারা-১৮৫)। তাই এ মাসে বেশি করে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারলে খুবই সওয়াব। এ মাসেই নবী (স.) জিবরাইল (আ.)কে কুরআন শুনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে কুরআন শুনতেন। হুজুর (স.) জীবনের শেষ রমজানে পূর্ণ কুরআন দুবার খতম করেছেন। কুরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজও পড়ব। এই রমজানে নফল পড়লে তা অন্য সময়ের ফরজের সওয়াব পাওয়া যায়। সকালে ফজরের পরে সূর্য উঠার ১০-১৫ মিনিট পরে ইশরাকের নামাজ এর দু’ঘন্টা পর চাশতের নামাজ সবচেয়ে উত্তম, এই সকল ইবাদতগুলো আমরা বেশি করে আদায় করবো, এবং বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করবো রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত আমরা ইবাদত বন্দেগিতে কাটানো এমন একটা সময়ও বাদ দেয়া যাবে না যে সময়টাতে আমল করা হবে না। দু’হাতে কাজ করবো মুখে আল্লাহর জিকিরে কলব তাজা রাখব। এই রহমতের মাসে যে ইবাদতই হোক তার অধিক অধিক সওয়াবের আশায় আল্লাহর রহমতের আশায় আমরা করব। আর সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখবো। রোজা রেখে মিথ্যা বলা, গালি দেয়া, খারাপ বস্তু দেখা, গীবত করা ইত্যাদি সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। নবী করিম (স.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে রোজাদারের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আমার নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে বিরত থাকল না তার শুধু পানাহার থেকে বিরত থেকে কোন নাভ নেই। সে রোজা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। যে সকল রোজাদার খারাপ দিক থেকে নিজেকে রক্ষা করবে। রোজা ধৈর্য্যের মাস আত্ম-সংযমের মাস, সকল খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করে নিজেকে একজন মুমিন বান্দারূপে গড়ে তোলার সূবর্ণ সুযোগ দান করে এই রজমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষের সব আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা খাস করে আমার জন্য। নবী (স.) বলেন, অন্যান্য আমলের সওয়াব নির্দিষ্ট আছে কিন্তু রোজা খাস করে আল্লাহর জন্য, তাই রোজার সওয়াব অসীম, এতো বেশী যে যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ বলতে পারে না। তাই অধিক ও সীমাহীন সওয়াবের আশায় আমরা বেশি বেশি আল্লাহর নিকট রহমত প্রার্থনা করবো। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর দেয়া ক্ষমার দিকে অগ্রসর হও, আর ঐ বেহেশতের দিকে যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনব্যাপী। যা তিনি মুত্তাকী বা পরহেজগারদের দান করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি করে আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন।
