মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের প্রাক্কালে বুদ্ধিজীবী অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী আসিফ মুনীর চৌধুরী বলেছেন, আল-বদর বাহিনীর অপারেশন-ইন-চার্জ মইন উদ্দিন এবং চিফ এক্সিকিউটর আশরাফুজ্জামান তার বাবাসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ, গুম এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে আমার রুশো কাকা চিনতে পারেন যে, ৩/৪ তরুণের মধ্যে এই দুইজন আমার বাবাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল।’ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর চৌধুরী তন্ময় জবানবন্দি প্রদানকালে একথা বলেন। গত ১৬ জুলাই তিনি জবানবন্দি পেশ শুরু করেন। গতকাল তিনি জবানবন্দির বাকি অংশ সম্পন্ন করেন। আসিফ মুনীর চৌধুরী আজ জবানবন্দিতে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তার বাবা শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বেলা ১টার দিকে ্ব জন যুবক একটি গাড়িতে করে আমাদের বাড়ির গেটে এসে আওয়াজ করে। আমার চাচা শমসের চৌধুরী রুশো গেইটের দিকে এগিয়ে গেলে উনাকে তারা প্রশ্ন করে, ‘আপনি কি মুনীর চৌধুরী’। তিনি বলেন, মুনীর চৌধুরী আমার বড় ভাই। তারা তখন বাবাকে ডেকে দিতে বলে। তিনি দোতলায় গিয়ে বাবাকে খবর দিলে বাবা লুঙ্গি-পাঞ্জাবী পরিহিত অবস্থায় নিচে নেমে গেইটের দিকে গেলে ওই যুবকরা তাকে বলে, ‘স্যার আমাদের সঙ্গে আপনাকে যেতে হবে’। বাবা তাদের জিজ্ঞেস করেন ‘তোমাদের কাছে ওয়ারেন্ট আছে’। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন ‘আছে’ বলেই বাবার পেছনে অস্ত্র ঠেকায় এবং তারা তাকে ঠেলতে ঠেলতে গাড়ির দিকে নিয়ে যায়। বাবাকে আমাদের সেই শেষ দেখা।’
আসিফ মুনীর বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর শুনতে পান, মিরপুর ও রায়ের বাজার বদ্ধভূমিতে অনেক বুদ্ধিজীবীর লাশ পড়ে আছে। তখন তার দুই চাচা রায়ের বাজারে তার বাবাকে খোঁজতে যান। সেখানে পড়ে থাকা বিকৃত, আধা বিকৃত বুদ্ধিজীবীদের লাশগুলোর মধ্যে তার বাবার লাশ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সাক্ষী বলেন, তারা জানতে পারেন যে, ১০ থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদ আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ নিজামুদ্দীন আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে অপহরণ করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার, শহীদ অধ্যাপক আবুল খায়ের, শহীদ অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, শহীদ ডাক্তার মর্তুজা, শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, শহীদ অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, শহীদ অধ্যাপক রাশেদুল হাসানসহ আরো অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
