কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ শিল্পের জন্য গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে আরো ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার তহবিলকে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীতকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশ্যাল প্রোগ্রামস বিভাগ একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। এ প্রস্তাব পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদন হলে অতিরিক্ত তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে এসএমই অ্যান্ড স্পেশ্যাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, ‘সম্প্রতি এ তহবিলের চাহিদা বৃদ্ধির বিবেচনায় তা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। আশা করছি কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তহবিল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করবে।’ তিনি বলেন, প্রথমদিকে ব্যাংকগুলো পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ব্যবহারে আগ্রহী না থাকায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ কম ছিল। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উত্সাহমূলক নানা কর্মকাণ্ডে ব্যাংকগুলো এখন পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে খুবই আগ্রহী হচ্ছে। পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হলে তা দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করছেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতের আওতায় কৃষিভিত্তিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০১ সালে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ‘কৃষিজাতপণ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য মফস্বলভিত্তিক শিল্প স্থাপনে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করে। পরে দুই দফায় তহবিলের আকার বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে শতভাগ পুনঃঅর্থায়ন দেয়া হয়। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে এ ঋণ দিয়ে থাকে।
মোট ৩৭টি খাতে এ তহবিল থেকে ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে আছে ধানের তুষ থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন, কুড়া থেকে ভোজ্য তেল, পোল্ট্রি থেকে বায়োগ্যাস ও জ্যাম-জেলি তৈরি, চিংড়ি হিমায়িতকরণ, লবণ প্রক্রিয়াজাত, গুঁড়া মসলা উত্পাদন এবং বীজ প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি। সর্বশেষ দুগ্ধ ও মত্স্য খামারকে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
