আমদানি পণ্য নির্ভর পলওয়েল সুপার মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। রমজানের শুরুতে খুব ভালো হলেও টানা চারদিনের হরতালে কেনাকাটায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তারপরও অন্যান্য মাকের্টের তুলনায় বেচাকেনা ভালো। দোকানীরা জানিয়েছেন, হরতালে অন্যান্য মার্কেট বন্ধ থাকলেও পলওয়েল সুপার মার্কেট বন্ধ থাকে না। বেঁচাকেনা চলে; কিন্ত এবারের আতংকের কারণে অনেকে ঘর থেকে বেরই হতে চাইছে না। যার কারণে বেঁচাকেনায় দেখা দিয়েছে মন্দা।
প্রতিবছরের মতো রমজানের শুরুতেই ছিমছাম ভাবে সাজানো হয়েছে মাকের্টটি। রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টাকা দিয়ে পণ্য সামগ্রী কিনে ক্রেতাদের যাতে ঠকতে না হয়, সেদিকে রয়েছে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর। মার্কেটের কোন দোকান বিদেশি ব্রান্ডের নকল পণ্য বিক্রি করলে, প্রমাণ সাপেক্ষে সেই দোকানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, রয়েছে আদায়ের জরিমানা ব্যবস্থা।
পলওয়েল মার্কেটে মূলত শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও যুবকদের হাল ফ্যাশনের পোশাকই পাওয়া যাচ্ছে বেশি। ছোট-বড়দের থ্রি পিস, শর্ট ও লং লাহেঙ্গা, বোম্বের পাঞ্জাবি, পাকিস্তানী থ্রি পিস, ছেলেদের শার্ট, জুতা, কেডস ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের জুতা-স্যান্ডেলও। এই মার্কেটের পণ্য সামগ্রী চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ সারা দেশের চাহিদা পূরণ করে থাকে। তবে মাকের্টের দোকান মালিকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ঘন ঘন হরতালের কারণে এ বছর ঈদ বাজারে পাইকারি দোকানগুলোতে বেচাকেনা কিছুটা ভালো হলেও খুচরা দোকানগুলোর অবস্থা বেশ খারাপ।
মাকের্টের দোকান ‘ফেয়ার ট্রেড’ এর স্বাত্বাধীকারী আব্দুল হক বললেন, আমাদের বেচাকেনা ভালো। আমাদের এখান থেকে সারা দেশে মালামাল যায়। এখানে ক্রেতার ঠকার কোন সুযোগ নেই। অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় আমরা নামমাত্র লাভে খুচরা পণ্য বিক্রি করে থাকি। ‘কাজী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে’ কথা হয় ক্রেতা আশরাফের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে থেকেই এখানে কেনাকাটা করি। কারণ অন্য মার্কেটে অনেক দোকানী বিদেশি জিনিস বলে দেশি জিনিস বিক্রি করে। এখানে এলে সেই ঠকার ভয়টা থাকে না।
‘রক ল্যান্ডস’ এ পাওয়া যাচ্ছে তরুণদের যাবতীয় হ্যাল ফ্যাসানের পোশাক, কেডস, বেল্ট, টিশার্ট, শট শার্টসহ যাবতীয় পণ্য সামগ্রী। দোকানের মালিক জহিরুল ইসলাম স্বপন জানালেন, এখানে সর্বনিম্ন ১৬০০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকার মধ্যে বিদেশি জিন্স পাওয়া যাচ্ছে। ‘হায়দার এন্টারপ্রাইজ’ এর মাহমুদুল হাসান বলেন, আমাদের এখানে ব্রান্ডের পাকিস্তানী থ্রি-পিস, শাড়ি, থান কাপড়, বোরখা পাওয়া যাচ্ছে।
হামজা ট্রেডার্সের মো. মিরাজ উদ্দিন বলেন, গতবারের থেকে এ বছর বেচাকেনা চার ভাগের এক ভাগ। তিনি বলেন, আগে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এই মাকের্টে ক্রেতারা শপিং করতে আসতো; কিন্তু এখন যানজটের কারণে সেরকম আর দেখা যায় না। ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে ছোট্ট দুই সন্তানকে নিয়ে ঈদের বাজার করতে আসা সাহেদ আলম বলেন, বাচ্চাদের পোশাকের দাম অনেক বেড়েছে।
পলওয়েল সুপার মার্কেটের মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম তালুকদার মনি মার্কেটের বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, পর্যাপ্ত মাল আছে; কিন্তু ক্রেতা নেই। টানা চার দিনের হরতালের কারণে ক্রেতারা নিরাপত্তাহীনতায় আছে। মার্কেটে আসছে না।
