নীরবতাই প্রমাণ করে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৩, ২৩:১২
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় প্রশ্নে বিএনপির নীরবতাই প্রমাণ করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে দলটির সমর্থন রয়েছে। তারা এই বিচার চায় না। তবে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় অবশ্যই কার্যকর হবে। আর যারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা করছে, তাদের বিচারও একদিন বাংলার মাটিতেই হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিসিএস পরীক্ষায় কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের নামে ভাঙচুরকারীদের সব ধরনের চাকরিতে অযোগ্য করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোট?া প্রথা নিয়ে আন্দালনের নামে যারা ভাঙচুর করছে তাদের ছবি সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে চাকরির পরীক্ষার সময় তাদের ডিসকোয়ালিফাই করা হবে। তারা যেন কোনো ধরনের চাকরি না পায়, তার পদক্ষেপও নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, যখন একের পর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় হচ্ছে, বিএনপি কোনো কথাই বলছে না। তারা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট কী অসন্তুষ্ট সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। এতেই বোঝা যায় তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা জাতি চায় একাত্তরে যারা গণহত্যা করেছে, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণ করেছে- সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। কেবল বিচার চায় না একটি দল, বিএনপি। এটাই স্বাভাবিক। জন্মের পর থেকেই যারা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে আসছে, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করে তাদের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে, তাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে- তারা কখনো বিচার চাইতেও পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের হরতালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য পবিত্র রমজান মাসে হরতাল ডেকে জ্বালাও-পোড়াও ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। রমজান মাস সংযমের মাস। যারা ইসলামে বিশ্বাস করে তারা কীভাবে এই মাসে হরতাল দিয়ে নৈরাজ্য করে? রায় দিয়েছে আদালত। আর এই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কীভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়। যারা দিনমজুর হরতাল দিয়ে তাদের পেটেও লাথি মারা হচ্ছে। এগুলোও এক ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ। শেখ হাসিনা বলেন, যারা অপরাধী তাদের বিচার হবে, শাস্তি পাবেই। এটা সংবিধান ও আইনের কথা। কাজেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আদালতের রায় মানতে হবে। রায়ে বিক্ষুব্ধ হলে, সন্তুষ্ট না হলে আপিল করার ও উচ্চাদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হরতাল দিয়ে মানুষ হত্যা করা হবে, মানুষের ওপর জুলুম করা হবে- এটা কেমন কথা? বিসিএস পরীক্ষায় কোটা বাতিলের দাবিতে সাম্প্রতিক আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মেয়েদের কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন কেন? মেয়েরা কী চাকরি পাবে না? মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের যে সুবিধা দেয়া হয়েছে, সেটাও কী বন্ধ করে দিতে হবে? মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই পিএসসি হয়েছে, এদেশের ছেলে-মেয়েদের চাকরি হচ্ছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে খাটো করতে এমন অপতত্পরতা কেন? এদেশে কী মুক্তিযোদ্ধারা থাকতে পারবেন না? রাজাকার আলবদররাই থাকবে? এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, যারা মেধাবী তাদের জন্য সর্বোচ্চ কোটা রয়েছে। মেধাবীদের মেধার বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে। মেধাবীরা সুযোগ-সুবিধা তো পাচ্ছেই। তাহলে কীভাবে আন্দোলনের নামে এমন ভাংচুর করা হয়? অন্যের প্রাপ্তি থেকে কেন বঞ্চিত করতে হবে? যার যার প্রাপ্য তো নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, যারা ভাংচুর করছে, তারা কখনোই চাকরি পাবে না। এদের ছবি তুলে ভিডিও করে পিএসসিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের বলে দেয়া হয়েছে ভবিষ্যতে এরা যখন চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় আসবে, তখন যেন এদের চাকরি দেয়া না হয়। সরকারি কিংবা অন্য কোনো ধরনের চাকরিতে যেন এরা ঢুকতে না পারে—সে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। এরা সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকারও রাখে না। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে বিএনপির সমর্থনের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন নারীদের নিয়ে অনেক কথা শুনতে হচ্ছে। মেয়েদের সাফল্যের পথ থেকে সরিয়ে এনে তাদের আয়-উপার্জনের পথও বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। বিএনপিও এর বিরুদ্ধে কথা বলছে না। আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসতে না পারলে লাখ লাখ গার্মেন্টস কর্মী চাকরি হারাবে। তাদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হবে। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলন। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচার ও সরকারের সফলতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে আওয়ামী লীগ ও এর সকল সহযোগী সংগঠন দেশজুড়ে সাংগঠনিক সফর করবে। বৈঠকে আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবসের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াত, হেফাজতের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। তিনি বলেন, আজকের কার্যনির্বাহী সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রোজাকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় নামবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য টিম গঠন করা হবে। যে টিমগুলো সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী জনমত গঠনে কাজ করবে। ঈদের পরপরই আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে বলেও জানান তিনি। পদত্যাগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, গুজব নিয়ে কি বলবো। সে রকম কিছু হলে আমি তো আপনাদের সামনে আসতাম। এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রচার-প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো আলাদা আলাদা টিম করবে। আওয়ামী লীগের টিম প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে এসব টিম গঠন করা হবে। নেতাদের এলাকাকে প্রাধ্যন্য দিয়ে টিম গঠন করা হবে। টিমগুলো মূলত বিএনপি-জামায়াত, হেফাজতের বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাজ করবে।